রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ঘটনাটি জানার পর পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না এবং দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলের কাছেই থানা থাকা সত্ত্বেও কেন হামলা ও ভাঙচুর ঠেকানো গেল না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
দারুসসালাম জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার সালেহ মুহম্মদ জাকারিয়াকে প্রধান করে এই তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুলিশের কোনো সদস্যের গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ডিএমপি কমিশনার নিশ্চিত করেন। ঘটনাস্থর পরিদর্শনে তাঁর কাছে মনে হয়েছে, এত বড় পরিসরে ভাঙচুর ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে কিছুটা সময় লেগেছে, যা ওই সময়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পুরো ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং ওই সময় পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আরও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে ডিএমপি কমিশনার জানান।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে হামলার সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, হামলা ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল। তবে কেন তখন হামলাকারীদের থামানো বা আটক করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
পুলিশের ভূমিকা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিএমপি কমিশনার দৃঢ়ভাবে বলেন, পুলিশ কোনো দল বা মত বিবেচনা করবে না; অপরাধীকে আইনের আওতায় আনাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। বেআইনি কার্যক্রমে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখোশধারী একটি বড় দল সেখানে হামলা চালিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং পরে স্থাপনা ভাঙচুর ও বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

















