রাজধানীর মিরপুরে রাতের অন্ধকারে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শাসক দলের লোকজন জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির বিষয়টি এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে এবং শাসক দলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। তাই সরকারের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ারসহ বোর্ড নেতারা সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত সেক্রেটারি মিরপুরের সেই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, আবাসিক এলাকায় গুলিবর্ষণ ও লুটপাটের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক আক্রোশমূলক আচরণ সব মহলেই নিন্দিত। সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব খাতের নিরাপত্তা নিয়ে জাতি উদ্বিগ্ন।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, মিরপুরের ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থাকার পরেও একটি প্রতিষ্ঠানকে এভাবে ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে, যা পেছনের দিনের সহিংসতার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষ যে মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, তা এখন হুমকির মুখে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা স্থানীয় পর্যায়ে মব বা মাসলম্যান তৈরি করে পুরোনো দিন ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা করছেন, জনগণ তাদের প্রশ্রয় দেবে না এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এছাড়া সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর এবং জুলাই যোদ্ধাদের ওপর বিভিন্ন স্থানে অপমানজনক আচরণের ঘটনাকেও তিনি তীব্র নিন্দা জানান।
বৈঠকে উপস্থিত বিপিএএমইএ প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ার বলেন, ব্যবসায়ী মহল বর্তমান সরকারকে সময় দিতে ও সহযোগিতা করতে চায়। তবে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ব্যবসার জন্য বড় হুমকি। তারা কেবল দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করতে চান। বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনায় তারা তাদের খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন এবং বিরোধীদলীয় নেতা তাদের সমস্যাগুলো লিখিত আকারে জমা দিতে বলেছেন, যাতে তিনি জাতীয় সংসদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা নিয়ে কথা বলতে পারেন। উল্লেখ্য, মিরপুরের ওই ঘটনার পর শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল ও উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।

















