গাজীপুরের কাপাসিয়ার বানার নদের পাড়জুড়ে এখন ময়লার স্তূপ। পানিতে ভাসছে পলিথিন ও নানা ধরনের অপচনশীল বর্জ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছর ধরে নিয়মিতভাবে কাপাসিয়া বাজার ও এর আশপাশের এলাকার বর্জ্য এখানে ফেলা হচ্ছে। বিশ্ব নদী দিবস পালনের প্রেক্ষাপটে নদটির এমন করুণ দশা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার দুপুরে খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পচা সবজি, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্যের বড় বড় স্তূপ জমে আছে। দুর্গন্ধের কারণে ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এই ঘাট দিয়েই নদের উত্তর পাড়ের তরগাঁও এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। ঘাটের পাশে থাকা কাঁচাবাজারের বিক্রেতাদের অনেক সময় বর্জ্যমিশ্রিত নদ থেকেই সবজি ধুতে দেখা যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
ঘাটের মাঝি মো. আসাদুল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তি সহ্য করছেন তারা, এখন আর কাউকে কিছু বলার ভাষা নেই। আরেক মাঝি সুধাস চন্দ্র মনিদাস বলেন, সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা শোনার কেউ নেই।
খেয়াঘাট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরেই রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এটি উদ্বোধন করা হলেও স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০২৪ সাল থেকেই এটি বন্ধ হয়ে আছে। কেন্দ্রটি নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হয়েছিল তার সঠিক তথ্যও পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামের মতে, ক্ষমতা পরিবর্তন হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আগ্রহ নেই। নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, নিয়মিত বর্জ্য ফেলার কারণে নদী ভরাট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। তিনি দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, বর্তমানে ওই কেন্দ্রটি অকার্যকর। লোকালয়ের মধ্যে হওয়ায় স্থানীয়রা আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। নতুন জায়গা দেখে দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট তৈরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

















