জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এই পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ হলে বা ডোপ টেস্টে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রেখে এ সংক্রান্ত আইন, বিধি ও নির্দেশিকা সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে গত ১৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি বিবাদীদের আইনি নোটিস পাঠান। নোটিসের জবাব না পেয়ে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে তিনি জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
আবেদনে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন সব নির্বাচন স্থগিত করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছিল।
আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি জানান, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান, তাদের স্বীকৃত মেডিকেল ও ল্যাবরেটরি থেকে ডোপ টেস্ট করে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেওয়ার বিধান নির্বাচনি আইন ও বিধিমালায় যুক্ত করার জন্য এই রিট মামলাটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা এবং এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারা যুক্ত করা।
জনপ্রতিনিধিদের সুস্থ মানসিক অবস্থা থাকা জরুরি মন্তব্য করে তিনি বলেন, একজন করদাতা হিসেবে তিনি চান যে তার প্রতিনিধি, তা তিনি এমপি, চেয়ারম্যান বা মেম্বার যেই হোন না কেন, তিনি যেন সুস্থ মানসিকতার অধিকারী হন। কারণ, একজন সমস্যাগ্রস্ত জনপ্রতিনিধি কীভাবে জনগণের সমস্যা সমাধান করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দেশে মাদক মহামারীর আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে আইনজীবী অনি বলেন, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংবিধান ও আইন মেনে চলা প্রতিটি নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীর কর্তব্য। সরকারি চাকরিজীবী এবং চালকদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলেও আইনপ্রণেতা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এর আওতার বাইরে রাখা সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশ ও মানুষের সেবার জন্য জনপ্রতিনিধিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা প্রয়োজন। মাদকাসক্ত কোনো ব্যক্তি জনপ্রতিনিধিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় নৈতিকতা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে পারেন না বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী অনি আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো জনপ্রতিনিধি মাদক গ্রহণে জড়িত হলে বিদ্যমান আইনেই তার শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

















