প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ১৩। রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক লুৎফুর রহমান। কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, মো. শাহআলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. কামরুল ইসলাম ও মো. শাকিল।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আতোয়ার রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন জানান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. এমরান হুসাইনসহ অন্যরা জামিন প্রার্থনা করলেও রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং জামিন শুনানির জন্য পরবর্তী সোমবার দিন ধার্য করেন। এর আগে শনিবার একই মামলায় অপর চার আসামি মো. সোহেল, মো. জুয়েল, মো. জিহাদ হাসান ও মো. রাব্বিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শাহআলী থানাধীন এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখে। এরপর হামলাকারীরা ভেকু ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং পূর্ব পাশের একটি সেমিপাকা ঘর গুঁড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া হামলাকারীরা ওষুধ, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি ও স্টিলের আলমারিসহ প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। ভাঙচুর ও মালামাল লুটসহ সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা নৈশপ্রহরীদের হুমকি দেয় এবং সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায়। এই ঘটনায় ডা. নাসরিন আখতার মো. হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাত ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে শাহ আলী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ২৮ জন এবং ১৫ জনসহ মোট ১৯ জন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

















