বিসমিল্লাহ টি-স্টলের বেঞ্চিতে বসে মোতালেব সাহেবের মেজাজ আজ ৪৪০ ভোল্ট। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও কাঁচামরিচের আকাশচুম্বী দাম দেখে তিনি বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা শুরু করলেন। তার মতে, গত সাত-আট মাসে সরকার তেমন কোনো দৃশ্যমান উন্নতি করতে পারেনি, বরং সাধারণ মানুষের পকেট খালি হয়েছে। মোতালেব সাহেব মনে করেন, এত দিনে অন্তত বড় কোনো পরিবর্তন আসার কথা ছিল।
পাশে বসে চা পান করা প্রবীণ দার্শনিক কুদ্দুস ভাই অবশ্য ভিন্ন মত পোষণ করলেন। তিনি মোতালেব সাহেবকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে বললেন, একটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোনো অব্যবস্থাপনা বা জঞ্জাল পরিষ্কার করতেই সাত-আট মাস সময় লেগে যায়। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি জরাজীর্ণ ভাড়া বাড়িতে ওঠার সাথে তুলনা করলেন, যেখানে আগের ভাড়াটিয়াদের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলো সমাধান করতে সময় প্রয়োজন।
তরুণ শ্রোতা রফিক এই যুক্তিতে সায় দিয়ে জানাল, আমরা অনেক সময় অতি দ্রুত ফলাফল আশা করি। তার মতে, সরকার এখন আগের হিজিবিজি মুছে নতুন করে কাজ করার চেষ্টা করছে, যা সময়সাপেক্ষ। কুদ্দুস ভাই আরও যোগ করেন, সরকার ডিজিটাল সিস্টেমে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করছে এবং আগের মতো বুক ফুলিয়ে দুর্নীতি করার প্রবণতাও কিছুটা কমেছে।
তবে কুদ্দুস ভাই স্মরণ করিয়ে দিলেন রাজনীতির সেই গোল্ডেন রুল, যেখানে সরকার সঠিক বা বেঠিক যাই করুক না কেন, তাদের মেয়াদ পাঁচ বছরই থাকে। এটি একটি নন-রিফান্ডেবল পলিসি, যেখানে সাত মাস পরেই পরিবর্তনের সুযোগ নেই। মোতালেব সাহেব অবশেষে এই যুক্তির বাস্তবতা মেনে নিলেন এবং স্বীকার করলেন যে, পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পাওয়া সরকারকে এখনই কাঠগড়ায় তোলা খুব একটা যৌক্তিক নয়।
শেষ পর্যন্ত আড্ডার সবাই একমত হলেন যে, সরকার ভাঙা গাড়ি ঠেলে স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং দর্শক হিসেবে আমাদের ধৈর্য ধরে দেখার প্রয়োজন আছে। সিনেমা কেবল শুরু হয়েছে, তাই পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য না করাই শ্রেয়। মোতালেব সাহেবও কিছুটা শান্ত হয়ে চায়ে চুমুক দিয়ে বাকি চার বছরের অপেক্ষায় থাকলেন।

















