আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল স্পেন ও ফ্রান্স। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই স্পেনের তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল ফরাসিদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করার পর ইয়ামাল জানান, ফ্রান্সের উচিত স্পেনকে ভয় পাওয়া, কারণ অতীতেও তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছে স্পেন।
১৯ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ তারকা আরও বলেন, বিশ্বকাপের সেরা দুটি দলই এখন সেমিফাইনালে লড়ছে। তবে স্পেনের মনে কোনো ভয় নেই। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ দলগুলো স্পেনের বিপক্ষে স্বাভাবিক ফুটবল খেলার সাহস পায় না এবং প্রায় সব দলই তাদের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে। ইয়ামালের মতে, বাইরের মানুষের কাছে মনে হতে পারে স্পেন তাদের সেরা ফর্মে নেই, কিন্তু প্রতিপক্ষরা সমানতালে খেলতে না পারলেও স্পেন ঠিকই জয় তুলে নিচ্ছে, যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও ইয়ামালের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। গত তিন বছরে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনাল এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগসহ বড় মঞ্চে স্পেন ও ফ্রান্সের মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পেনের জয়জয়কার ছিল। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবার ফাইনালে পৌঁছানোই তাদের মূল লক্ষ্য। ২০১০ সালের পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, যেখানে ফ্রান্স টানা তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠার অপেক্ষায় আছে।
এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সাথে ড্র এবং সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে নকআউট পর্বে আসা স্পেন অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। শেষ দুই ম্যাচে আর্সেনাল মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোর গোল দলটির সেমিফাইনালের পথ প্রশস্ত করেছে। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা ইয়ামাল ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলের জয়কেই এখন প্রাধান্য দিচ্ছেন।
অন্যদিকে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ফ্রান্সের শক্তির কথা স্বীকার করলেও নিজের দলের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ফ্রান্স অত্যন্ত শক্তিশালী দল হলেও তাদের হারানোর সক্ষমতা স্পেনের রয়েছে। সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে জয় পেতে হলে নিজেদের সেরা খেলাটাই উপহার দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

















