পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই কথা বলেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও আধুনিকীকরণের ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নিজের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি সেনা পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবেই আজ সশস্ত্র বাহিনীর হাতে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। পতাকার মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাসের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের উত্তাল মুহূর্তে ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তিনিই ২৬ মার্চ স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা দেন এবং ২৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে তা পাঠ করেন। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও সাফল্যকে গোটা বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবেই গণ্য করে।
বর্তমান পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি ও সামরিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও যুদ্ধের ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণভাবেই গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি আরও জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওয়ান র্যাংক, ওয়ান পেনশন’ নীতি বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় আত্মমর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশ কোনো আপস করবে না। বিশ্বমঞ্চে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। এর আগে সকাল সোয়া ৯টায় প্রধানমন্ত্রী সাভার সেনানিবাসে পৌঁছালে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান তাকে স্বাগত জানান। পরে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
এদিন সম্মানজনক জাতীয় পতাকা প্রাপ্ত ইউনিটগুলো হলো—প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, ৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এডি রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

















