চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ৩০০ বস্তা চিনিসহ একটি কাভার্ডভ্যান গায়েবের ঘটনায় চকরিয়া থেকে সাড়ে ৭ টন চিনির চালান উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের নোনাছড়ি এলাকার হারবাং ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রাসেলের একটি বন্ধ টেইলার্সের দোকান থেকে এই চিনিগুলো উদ্ধার করা হয়। পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে এখন পর্যন্ত লুণ্ঠিত মোট ৩০০ বস্তার মধ্যে ২৮৪ বস্তা বা ১৪.২ টন চিনি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাভার্ডভ্যান চালক মো. আলমগীর পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে ১৫ টন চিনি আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে এই চিনি চকরিয়া ও আজিজনগর এলাকার একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা আজিজনগর বাজারের ‘রাজিব স্টোর’-এর মালিক মো. রাহাত উদ্দিন জুয়েল এবং চকরিয়ার নোনাছড়ির বন্ধ দোকানের মালিক রাসেল, যারা সম্পর্কে দুই ভাই। এর আগে বান্দরবানের আজিজনগর বাজারে জুয়েলের গোডাউন থেকে প্রথম দফায় ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকরিয়ার নোনাছড়িতে রাসেলের টেইলার্সের দোকান থেকে আরও ১৫০ বস্তা চিনি উদ্ধার করে পুলিশ।
হারবাং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল আহমদ জানান, উদ্ধার অভিযানের খবর পেয়ে অসাধু ব্যবসায়ী জুয়েল ও রাসেল পরিবারসহ বাড়ি-ঘর তালাবদ্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন। এই ঘটনায় লুণ্ঠিত চিনির মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে পটিয়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় কাভার্ডভ্যান চালক আলমগীর ও মুদি দোকানি রাহাত উদ্দিন জুয়েলকে আসামি করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, চালক আলমগীর বিশ্বাস ভঙ্গ করে অন্যান্য আসামিদের সাথে যোগসাজশে ১৬ লাখ টাকার চিনি আত্মসাৎ করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহবুবুর রহমান জানান, চালক আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান চিনি উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা ক্রসিং সংলগ্ন চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়কের নবনির্মিত কর্ণফুলী উপজেলা ভবনের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় চিনিবিহীন কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে।

















