জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা সামান্তা শারমিন জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। দলটির শুরু থেকেই তিনি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঘোষিত পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে তার পদমর্যাদা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন তালিকায় তাকে শুধুমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়েছে এবং রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
সামান্তার এই পদাবনতির পেছনে মূলত দুটি সম্ভাব্য কারণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে একটি হলো ব্যক্তিগত কারণে দলীয় কর্মকাণ্ডে তার দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা এবং অন্যটি হলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের সঙ্গে আদর্শিক মতপার্থক্য। এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়া হলেও, দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে সামান্তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে আক্রান্ত। তার চিকিৎসা ও সেবায় সময় দেওয়ার কারণে তিনি গত কয়েক মাস ধরে দলীয় কাজে আগের মতো সময় দিতে পারছিলেন না। এই ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা তিনি দলকে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও সামান্তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের ভেতরে যে মতভিন্নতা ছিল, তাও তার দূরত্ব তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সামান্তা নির্বাচনে অংশ নেননি এবং এরপর থেকেই দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ কমে যায়।
এ বিষয়ে এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে দলের কয়েকজন সহযোদ্ধা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন বা দল ছেড়েছেন, তবে তাদের প্রতি দলের ভালোবাসা অটুট রয়েছে। সামান্তা এখনো দলের সঙ্গেই আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অসুস্থ স্বামীকে সময় দেওয়ার কারণেই তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে কিছুটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তবে আদর্শিক কারণে তার মনঃক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এই নেতা। আশা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সামান্তা ভবিষ্যতে পুনরায় সক্রিয় হবেন।
উল্লেখ্য যে, নতুন এই কমিটিতে কেবল সামান্তার পদেই পরিবর্তন আসেনি, বরং শীর্ষ নেতৃত্বেও রদবদল আনা হয়েছে। আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব হিসেবে আখতার হোসেন তাদের আগের পদে বহাল রয়েছেন। নতুন কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগের কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

















