ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে কানাডার সম্পর্ককে আরও নিবিড় করার লক্ষ্যে নতুন এক রূপরেখা তুলে ধরেছেন ইইউ প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন। মন্ট্রিয়লে অনুষ্ঠিত দুই দিনের কানাডা-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের বৃহস্পতিবারের অধিবেশনে তিনি কানাডাকে জোটের ‘সহযোগী সদস্য’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। লিয়েন জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর মধ্যে এটি হবে ইইউর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের উদ্যোগ। এই কাঠামোর আওতায় শাসনব্যবস্থা, নীতি নির্ধারণ, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে উভয় পক্ষ একযোগে কাজ করার সুযোগ পাবে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কানাডা-ইইউ শীর্ষ সম্মেলন খুব একটা গুরুত্ব না পেলেও এবারের সম্মেলনের দিকে সবার বিশেষ নজর ছিল। গত মাসে লিয়েন প্রথমবারের মতো কানাডাকে সহযোগী সদস্য করার ধারণাটি উত্থাপন করেন, যদিও বর্তমানে ইইউর সাংগঠনিক কাঠামোতে এমন কোনো পদের অস্তিত্ব নেই। এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার সময় মন্তব্য করেছিলেন যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে কানাডা ও ইউরোপের সম্মিলিত অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী ও বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৃষ্ট বাণিজ্য যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে তিনি এই কৌশল বেছে নিয়েছেন। তবে এই নতুন সম্পর্কের ধরণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জার্মানির মতো কিছু সদস্য রাষ্ট্র ‘সহযোগী সদস্য’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের আশঙ্কা, অন্য কোনো দেশ জোটে যোগ দেওয়ার আগেই কানাডাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কানাডা ইইউর পূর্ণ সদস্যপদ না পাওয়ায় সদস্য ফি প্রদান করবে না, বরং পারস্পরিক লাভজনক কর্মসূচিতে অংশ নেবে।
কানাডার বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোইলিভার এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এটি কানাডীয়দের নিত্যপণ্যের দাম বা মর্টগেজের বোঝা কমাতে কোনো ভূমিকা রাখবে না। তিনি মনে করেন, ইইউর সঙ্গে কানাডার ইতিমধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, তাই নতুন এই সম্পর্কের প্রয়োজন নেই। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কানাডার এই সহযোগী সদস্য হওয়ার ধারণাকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হুমকি দিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপকে শত্রুতা হিসেবে গণ্য করা হলে ইউরোপের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কাউকে অপমান করার জন্য নয়। প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, সম্পর্কের নাম যাই হোক না কেন, কানাডীয়দের জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাবই তাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

















