বাংলাদেশ

সেন্টমার্টিন খুললেও স্থানীয়দের কপালে দুশ্চিন্তা

প্রতিবেদক
মাত্র ১৫ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে ৯৮৫ গোলের মাইলফলকে রোনালদো মাত্র ১৫ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে ৯৮৫ গোলের মাইলফলকে রোনালদো নাঈমের স্পিন জাদুতে ২৪৫ রানে থামল ওয়েস্ট ইন্ডিজ নাঈমের স্পিন জাদুতে ২৪৫ রানে থামল ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নেওয়ার তথ্যটি গুজব, জানাল জাপান বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নেওয়ার তথ্যটি গুজব, জানাল জাপান বার কাউন্সিলে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন নাকচ ৫ আসামির বার কাউন্সিলে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন নাকচ ৫ আসামির কানাডাকে ‘সহযোগী সদস্য’ করার রূপরেখা দিলেন ইইউ প্রধান উরসুলা কানাডাকে ‘সহযোগী সদস্য’ করার রূপরেখা দিলেন ইইউ প্রধান উরসুলা মার্কিনদের ওপর ইরানের হামলার পরিকল্পনা, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র: কী অস্ত্র হাতে? মার্কিনদের ওপর ইরানের হামলার পরিকল্পনা, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র: কী অস্ত্র হাতে? সিরাজগঞ্জে ২৫৫ গ্রাম হেরোইনসহ যুবক গ্রেফতার সিরাজগঞ্জে ২৫৫ গ্রাম হেরোইনসহ যুবক গ্রেফতার তুরাগে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ৫০ গজ দূরেই মিলল মোটরসাইকেল তুরাগে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ৫০ গজ দূরেই মিলল মোটরসাইকেল তাহসিফ সাউরির মোটরসাইকেল উদ্ধার তাহসিফ সাউরির মোটরসাইকেল উদ্ধার তাহসিফের মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই তাহসিফের মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই
সব খবর

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ তিন হাজার ৫০০ পর্যটক এই দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ পাবেন এবং পর্যটন মৌসুম চলবে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এই খবরে দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা উচ্ছ্বসিত এবং আনন্দ মিছিলও করেছেন। জনপ্রতি ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিয়ে পর্যটকরা দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে আশা ফিরে এলেও, পরিবেশ সুরক্ষার দোহাই দিয়ে আরোপিত কঠোর বিধি-নিষেধ নিয়ে তাদের মনে আশঙ্কার কালো মেঘও দেখা দিয়েছে, যা দ্বীপের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে নতুন সংকটের মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটকদের যাতায়াত সীমিত থাকায় দ্বীপের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। এবার ভ্রমণের পাশাপাশি রাতযাপনের সুযোগ থাকলে পর্যটকেরা দ্বীপে বেশি সময় অবস্থান করতে পারবেন, যা হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, নৌপরিবহনসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসায় গতি ফিরিয়ে আনবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে, সেন্টমার্টিনের প্রায় ১২ হাজারের বেশি স্থায়ী বাসিন্দার জীবন ও জীবিকা, যাদের অন্তত ৮৫ শতাংশ মানুষ সরাসরি পর্যটন ও হোটেল-মোটেল ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল, তারা এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। বিগত পাঁচ বছরের টানা অচলাবস্থা ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে সেন্টমার্টিনের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে।

চার বছর আগেও টেকনাফ থেকে প্রতিদিন ৯ থেকে ১১টি বড় জাহাজে করে পাঁচ-ছয় হাজার পর্যটক কম খরচে সেন্টমার্টিনে যেতে পারতেন। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ পরিস্থিতি, নাফ নদীতে গুলিবর্ষণ ও অপহরণের মতো ঘটনার পর টেকনাফ রুট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে যে রুট নির্ধারণ করা হয়েছে, তা স্থানীয়দের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজার থেকে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের দীর্ঘ রুট পাড়ি দিয়ে দ্বীপে যেতে পর্যটকদের যাতায়াত সময় ও খরচ উভয়ই দ্বিগুণ হয়ে গেছে, ফলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ পর্যটকদের একটি বড় অংশ সেন্টমার্টিন বিমুখ হয়ে পড়েছেন।

অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের এই ধারাবাহিক রুট জটিলতা, সময়ের সংকোচন এবং নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাসের আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্বীপের হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ট্রলার মালিকদের সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতি ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, সেন্টমার্টিনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য আনতে স্থানীয় মানুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত করা জরুরি। তিনি জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পর্যটনকর্মীদের সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি মৌসুমে কাজ না থাকলে সাময়িক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি, সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী নৌযান, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

এই চরম অর্থনৈতিক সংকটের সাথে দ্বীপবাসীর জীবনে যোগ হয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপে জাতীয় গ্রিডের কোনো সংযোগ নেই। ২০১৯ সালে চালু হওয়া সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বর্তমানে দিনে মাত্র ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তাও প্রতি ইউনিট ৪২ থেকে ৫২ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে দরিদ্র বাসিন্দাদের। নভেম্বরের পর প্রতি ইউনিটে আরও ১০ টাকা বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রাতের অন্ধকারে পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি ব্যবসায়িক কার্যক্রম ফ্রিজিং ও কোল্ড স্টোরেজের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ছে। প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষের এই জনপদ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে ধুঁকছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দ্বীপ বন্ধ থাকায় প্রান্তিক মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটিয়েছে। তারা টেকনাফ রুট পুরোপুরি চালু না করা এবং রাত্রিযাপনে কড়াকড়ি রাখলে দ্বীপের প্রায় ১২ হাজারের অধিক মানুষের জীবিকা চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন। পরিবেশ রক্ষার কঠোরতা প্রয়োজন, তবে তা যেন আদি বাসিন্দাদের জীবন ধ্বংস করে না করা হয়, এটাই তাদের আকুতি।

দ্বীপের অর্থনীতির মেরুদণ্ড মূলত আবাসন খাত (হোটেল-রিসোর্ট), রেস্তোরাঁ ও খাদ্য সরবরাহ খাত এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহন ও খুচরা ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এই তিন খাতে যে অর্থের লেনদেন হয়, তা দিয়েই বাকি সাত-আট মাস দ্বীপের পরিবারগুলো জীবিকা নির্বাহ করে। অথচ গত পাঁচ বছরে সরকারের অপরিকল্পিত নীতি পরিবর্তনে এই অর্থনৈতিক শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। একশোরও বেশি হোটেল ও রিসোর্টের মালিকরা ব্যাংক ঋণ ও ব্যক্তিগত মূলধন বিনিয়োগ করে লোকসান গুনছেন। নোনা ধরা স্থাপনাগুলো সচল রাখতে প্রতি বছর যে বিপুল সংস্কার ব্যয় হয়, তার এক-তৃতীয়াংশও গত কয়েক মৌসুমে ব্যবসা থেকে উঠে আসেনি।

রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের অবস্থা আরও শোচনীয়। মূল ভূখণ্ড থেকে চড়া ভাড়ায় কাঁচামাল ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসতে হয়। পর্যটকের সংখ্যা বেঁধে দেওয়া এবং অবস্থানের সময় সংকুচিত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। ফলে খাদ্য ব্যবসার সাথে জড়িত কয়েকশো স্থানীয় বাবুর্চি, সাহায্যকারী এবং সরবরাহকারী কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রূপসী বাংলা রিসোর্টের মালিক মহিউদ্দিন জানান, বিগত বছরগুলোতে যে লোকসান হয়েছে তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। আগে প্রতি সিজনে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় আসত, কিন্তু এখন দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ করেন যেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয় যাতে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং পরিবেশ ও দ্বীপবাসী উভয়ের দিক বিবেচনা করা হয়।

আর্থিক ক্ষতির চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে দ্বীপের হাজারো সাধারণ মানুষের মানসিক ও সামাজিক জীবনে। সিংহভাগ বাসিন্দা জেলের কাজ করতেন, কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও সীমান্ত উত্তেজনার কারণে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ। পর্যটনই ছিল তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন, কিন্তু সেখানেও তারা কোণঠাসা। এক প্রবীণ মৎস্যজীবী ও ভ্যানচালক ওসমান জানান, আগে পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় করতেন, যা দিয়ে বর্ষার কঠিন মাসগুলোতে চলত। গত মৌসুমের ধাক্কা সামলাতে না পেরে তাকে ভ্যানটি বন্ধক রেখে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। দ্বীপের ঘরে ঘরে ঋণের বোঝা আর ক্ষুধার হাহাকার। অনেকেই পৈতৃক ভিটেমাটি ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে দিনমজুরের কাজে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। কর্মসংস্থান হারিয়ে তরুণ সমাজও হতাশায় ভুগছে, যা সামাজিক নিরাপত্তা ও অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী সরকারের সিদ্ধান্তে আনন্দিত হলেও, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে সেন্টমার্টিনের পর্যটনশিল্পে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল, তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পর্যটনশিল্পে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎস সংকুচিত হওয়ায় দ্বীপবাসীকে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। বিকল্প কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তিনি সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত সেন্টমার্টিনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তিনি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি দ্বীপবাসীর ন্যায্য অধিকার, কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মিয়া জানান, পর্যটকরা ভ্রমণে যেতে পারবেন এমন খবরে দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পর্যটন মৌসুমের আয় দিয়ে বাকি সময় তাদের সংসার চলে। দীর্ঘ সময় পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ থাকায় যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। আরেক বাসিন্দা রহমত উল্লাহ বলেন, আগের বিধিনিষেধের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ায় তারা আনন্দিত। ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা ও নিয়মনীতি নির্ধারণ করায় সবাই খুশি।

পর্যটন ব্যবসায়ী তৈয়ব উল্লাহ সরকারের নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আগের তুলনায় এ বছর পর্যটন মৌসুমে পর্যটকরা বেশি আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলামও এ সিদ্ধান্তে আনন্দিত। তিনি বলেন, দ্বীপের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পর্যটন জড়িত। পর্যটকদের আগমনকে সামনে রেখে দ্বীপের সব পেশার মানুষ কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে ব্যস্ত। এবার পুরো সময় রাতযাপনের সুযোগ থাকলে তা ব্যবসায়ী ও ভ্রমণপিপাসু উভয়ের জন্যই ভালো খবর। কক্সবাজার থেকে আসা পর্যটকদের ভ্রমণের কষ্টও কমবে।

টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিন ভ্রমণকালে পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন দায়িত্বে থাকবে এবং বিধিনিষেধগুলো বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে তারা কাজ করবেন।

পরিবেশবাদীদের যুক্তি অনুযায়ী, সেন্টমার্টিনের প্রবাল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা অপরিহার্য। পর্যটকদের ফেলা অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য দ্বীপের মাটিকে বিষাক্ত করছে এবং সাগরের তলদেশের প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস করছে। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে দ্বীপের মিষ্টি পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, দ্বীপটিকে বাঁচাতে হলে পর্যটনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতেই হবে। কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, পরিবেশ রক্ষার এই দায়ভার কেন কেবল দরিদ্র ও অসহায় আদিবাসীদের ওপর চাপানো হবে? কেন বিকল্প কর্মসংস্থান বা সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলো না? বিগত ৯ মাস দ্বীপ অবরুদ্ধ থাকার সময় কোনো খাদ্য সহায়তা বা বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা হয়নি। ফলে পরিবেশ বনাম জীবিকার এই লড়াইয়ে দ্বীপবাসী নিজেদের অবহেলিত ভাবছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলেও তা দ্বীপের স্থবির অর্থনীতিতে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে পারবে না। যতক্ষণ না টেকনাফ রুট পুনরায় সচল হচ্ছে এবং পর্যটকদের রাত্রিযাপনের অধিকার স্বাভাবিক করা হচ্ছে, ততক্ষণ বড় বিনিয়োগকারীরা লোকসান কাটাতে পারবেন না এবং প্রান্তিক মানুষগুলো জীবিকা ফিরে পাবেন না। দ্বীপের বাসিন্দারা চান পরিবেশের সুরক্ষা বজায় রেখেই পর্যটন চলুক, কিন্তু তাদের পেটে লাথি মেরে বা বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত করে নয়। সেন্টমার্টিনকে বাঁচাতে হলে সরকারকে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও মানবিক সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে এই প্রবাল দ্বীপটি হয়তো একদিন পরিবেশের দিক থেকে টিকে থাকবে, কিন্তু তার আদি বাসিন্দা ও মানুষের জীবনযাত্রা এক ভূতুড়ে মরুভূমিতে পরিণত হবে।

মাত্র ১৫ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে ৯৮৫ গোলের মাইলফলকে রোনালদো মাত্র ১৫ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে ৯৮৫ গোলের মাইলফলকে রোনালদো নাঈমের স্পিন জাদুতে ২৪৫ রানে থামল ওয়েস্ট ইন্ডিজ নাঈমের স্পিন জাদুতে ২৪৫ রানে থামল ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নেওয়ার তথ্যটি গুজব, জানাল জাপান বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নেওয়ার তথ্যটি গুজব, জানাল জাপান বার কাউন্সিলে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন নাকচ ৫ আসামির বার কাউন্সিলে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন নাকচ ৫ আসামির কানাডাকে ‘সহযোগী সদস্য’ করার রূপরেখা দিলেন ইইউ প্রধান উরসুলা কানাডাকে ‘সহযোগী সদস্য’ করার রূপরেখা দিলেন ইইউ প্রধান উরসুলা মার্কিনদের ওপর ইরানের হামলার পরিকল্পনা, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র: কী অস্ত্র হাতে? মার্কিনদের ওপর ইরানের হামলার পরিকল্পনা, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র: কী অস্ত্র হাতে? সিরাজগঞ্জে ২৫৫ গ্রাম হেরোইনসহ যুবক গ্রেফতার সিরাজগঞ্জে ২৫৫ গ্রাম হেরোইনসহ যুবক গ্রেফতার তুরাগে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ৫০ গজ দূরেই মিলল মোটরসাইকেল তুরাগে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ৫০ গজ দূরেই মিলল মোটরসাইকেল তাহসিফ সাউরির মোটরসাইকেল উদ্ধার তাহসিফ সাউরির মোটরসাইকেল উদ্ধার তাহসিফের মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই তাহসিফের মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই
সব খবর