বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির (২৮) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তারা মামলা করে আদালতে দৌড়াদৌড়ির ঝামেলায় জড়াতে অনাগ্রহী। শুক্রবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশে চমৎকার সরকার রয়েছে এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ কারণেই তারা আইনি প্রক্রিয়ায় গিয়ে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে চাচ্ছেন না। মামলার বিষয়ে পারিবারিকভাবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।
তাহসিফের বাবা তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ধাওয়া খাওয়ার যে খবর চাউর হয়েছে, সেটিকে সরাসরি ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যে এলাকায় মরদেহ পাওয়া গেছে, তাহসিফ সেখানে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। একজন ডিফেন্স অফিসার পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দৌড় দেবেন—এটি অবান্তর। তিনি জানান, তাহসিফ সাধারণত তার বন্ধুদের সাথে গুলশান-বনানী এলাকায় যাতায়াত করতেন। নিখোঁজ হওয়ার রাতে তাহসিফের মা শেষবার তার সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন, যেখানে তিনি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরদিন সন্ধ্যায় উত্তরখান থানা থেকে তাদের জানানো হয় যে, রাজাবাড়ী ঘাটে ছেলের মরদেহ পাওয়া গেছে।
তাহসিফের ব্যবসার বিষয়ে তিনি জানান, তার ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের কাজ করতেন। ব্যবসার দায়িত্ব তার বন্ধু দীপের ওপর ছিল, যার সাথে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক বিদ্যমান। তাহসিফের বাবা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার একজন সুনাগরিক ও পাইলট হিসেবে তার ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দেখবে এবং প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, সরকার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। নৌপুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, পরিবার মামলা না করলে আইন অনুযায়ী পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। বর্তমানে নৌপুলিশের পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর বুধবার বিকেলে ৪টা ৩০ মিনিটে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। উদ্ধারকালে তার পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা, এবং পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

















