মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কি না, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শনিবার সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ঢাকা থেকে খুলনা বিভাগ অভিমুখী ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, চার দিনের সফর শেষে ফিরে আসার পর কী জন্য গিয়েছিলেন এবং কী করে এসেছেন—তা জাতির সামনে খোলাসা করতে হবে। কানেকটিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, তাদের পরিণতি তারা এখন ভোগ করছে। তিনি বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, তারা জাতির সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে উচ্চমূল্য পরিশোধের পথে রয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লংমার্চের এই উদ্বোধনী সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদ ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন অফিস বিএনপি অফিসে পরিণত হয়েছে এবং সেখান থেকে সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সংবিধান সংস্কার না করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করাই দেশের সব সংকটের মূল। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাংবিধানিক পদে দলীয় লোক বসানোর চেষ্টা চলছে, যা জুলাই সনদের পরিপন্থী।
সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হওয়া এই লংমার্চের বহর প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ১৯টি জেলা অতিক্রম করবে। নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী ও স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লি মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে পথসভা শেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ হবে। ১১-দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধ এবং প্রশাসনের দলীয়করণ রোধ। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছিল এই জোট, এবং আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চের পরিকল্পনা রয়েছে।

















