চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে এক প্রবাসীর কাছে মুঠোফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সাব্বির হোসেন ওরফে সানি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাব্বির বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। সাতক্ষীরার বাসিন্দা হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে নগরের হামজারবাগের বাসিন্দা প্রবাসী মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শওকতকে ফোন করে চাঁদা দাবি করেন সাব্বির। হুমকির অডিও রেকর্ডে সাব্বিরকে বলতে শোনা যায়, যদি ছেলেপুলে পাঠিয়ে ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে চাঁদার পরিমাণ ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা হয়ে যাবে। তিনি আরও হুমকি দেন যে, বিষয়টি ক্লিয়ার না করলে পরিবারের যেকোনো সদস্যের শরীরকে বোলতার বাসা বানিয়ে খেলা শুরু হবে। শওকতের বাবার হার্টের রোগী হওয়ার কারণে তাকে সরাসরি ফোন না করে শওকতকে জানানো হয়েছে বলেও সাব্বির উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী প্রবাসীর ভবনের ফটকে গুলির ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সাব্বিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সাব্বির বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন এবং কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজির দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি মূলত সাজ্জাদ ও সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীদের ফোন করতেন এবং সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হামলা বা গুলির ভয় দেখাতেন।
সাব্বিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় মামলা রয়েছে। এছাড়া গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁও কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে শনাক্ত করা গেছে। ভয়ের কারণে অনেক ভুক্তভোগীই আগে মামলা করতে সাহস পাননি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

















