এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শহর ও মফস্সলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান ফুটে উঠেছে। পরিসংখ্যান বলছে, পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরী এককভাবে আধিপত্য ধরে রেখেছে, অন্যদিকে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর ফল অত্যন্ত হতাশাজনক। গত শনিবার প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরে পাসের হার ৭৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অথচ একই শিক্ষা বোর্ডের অধীন মানিকগঞ্জে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। এছাড়া শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জেও পাসের হারের চিত্র একই, যা ৪৩ শতাংশের নিচে।
ঢাকা মহানগরে এক লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮ হাজারের বেশি উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪৮২ জন। এর বিপরীতে মানিকগঞ্জে ১০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন প্রায় চার হাজার জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৮৭ জন। শরীয়তপুরের চিত্র আরও করুণ, সেখানে পাস করেছেন দুই হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩৫ জন। ঢাকা বোর্ডের অধীন গাজীপুর ও নরসিংদী ছাড়া অন্য কোনো জেলায় পাসের হার ৬০ শতাংশ অতিক্রম করতে পারেনি। নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর ও কিশোরগঞ্জের মতো জেলাগুলোতে পাসের হার ৪৫ থেকে ৫১ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডেও। সেখানে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৫৭ শতাংশের বেশি হলেও খাগড়াছড়িতে তা ৩০ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৩৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ শতাংশের বেশি। কেবল ভৌগোলিক অবস্থান নয়, শহরের ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও ফলাফলের বড় পার্থক্য বিদ্যমান। ঢাকা কলেজ ও নটর ডেম কলেজের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৯৯ শতাংশের কাছাকাছি এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার হারও অনেক বেশি। শিক্ষা–সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান, কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার সুযোগ এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণেই এই বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ জানান, করোনাকালে শিক্ষার্থীদের যে শিখনক্ষতি হয়েছিল তা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, ফলে ঘাটতি নিয়েই তারা পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে দিচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সামগ্রিকভাবে দেশের সাধারণ নয়টি বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন, আর মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে এ সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।

















