সাংবিধানিক গণতন্ত্রে ধরনা, অনশন ধর্মঘট ও সত্যাগ্রহের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান নেই বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের কেরালা হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আদালত একক বেঞ্চের দেওয়া একটি পূর্ববর্তী আদেশ বাতিল করেছেন, যেখানে এর্নাকুলাম জেলার শ্রীশঙ্করাচার্য সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ জন সাময়িকভাবে বরখাস্ত শিক্ষার্থীকে সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
বিচারপতি অনিল কে নারেন্দ্রন ও বিচারপতি এস মুরলী কৃষ্ণানের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার জানান, একক বেঞ্চ শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায় দিয়ে ভুল করেছেন, কারণ তারা পরীক্ষায় বসার যোগ্যতার কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। গত আগস্ট মাসে উপাচার্য সিজা থমাসকে অপমান করে পথনাটক মঞ্চস্থ করা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শনের দায়ে সিপিআইএমের ছাত্রসংগঠন ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের (এসএফআই) এই সদস্যদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা উন্নত অবকাঠামো ও শিক্ষা-সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করছিলেন এবং বাধ্যতামূলক উপস্থিতির শর্ত পূরণ না হওয়ায় পরীক্ষার অনুমতির জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ৩০ অক্টোবর একক বেঞ্চের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে।
ডিভিশন বেঞ্চ তাদের রায়ে উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো কর্তৃপক্ষকে আইনগত শর্ত বা বিধিনিষেধের পরিপন্থি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার মতো প্রতিকার আদালত দিতে পারে না। বিধিবিধান উপেক্ষা করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ ও আইনি মানদণ্ডকে দুর্বল করবে। আদালত আরও বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বহিষ্কার বা সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল জ্ঞান অর্জনের জন্য, রাজনীতির জন্য নয়। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করতে পারে না এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের অধিকারও কেড়ে নিতে পারে না।

















