২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে কোনো পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে কি শ্বশুরবাড়ি রংপুর বেড়াতে আসবেন যে তাকে পাসপোর্ট দেব? তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য সক্রিয় প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের ধরতে পাসপোর্ট লাগে না, বরং তাদের হস্তান্তর করা হয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট দেওয়ার বা হস্তান্তরের প্রয়োজন নেই। তিনি একজন পলাতক স্বৈরাচার ও সন্ত্রাসী, যিনি হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। তাকে কি আমরা একজন সাধারণ যাত্রী হিসেবে পাসপোর্ট দিয়ে বলব যে, আসুন আপনার শ্বশুরবাড়ি রংপুর ঘুরে যান? তাকে আমরা এখন হ্যান্ডওভার বা হস্তান্তরের দাবি জানাই।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এদিকে, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় ঢাকা কয়েকবার ভারতের কাছে অনুরোধ জানালেও নয়াদিল্লি থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

















