সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কলিমাখালী গ্রামে বসবাস করেন ফারজানা আক্তার। ১৯৮৮ সালের এক দুর্যোগের (বন্যা নাকি ঘূর্ণিঝড় মনে করতে পারলেন না তিনি) সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় দুই মাস। চল্লিশের কাছাকাছি বয়সের এই নারী সেলাই মেশিন চালিয়ে মাসে আয় করেন এক থেকে দেড় হাজার টাকা। তাঁর অসুস্থ স্বামী স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, যার মাসিক আয় পাঁচ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মাসে ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকার আয়েই চলে চারজনের সংসার। এর মধ্যে শুধু খাবারের পেছনেই ব্যয় হয় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা, ফলে প্রায়ই ধারদেনা বা ছাগল বিক্রির মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।
সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা থামতে দেননি ফারজানা। তাঁর ছেলে তামিম হোসেন নবম শ্রেণিতে পড়ে এবং মেয়ে আয়েশা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে বর্তমানে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে পড়ছে। মেয়ের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে ফারজানার কণ্ঠে ফুটে ওঠে গর্ব ও আনন্দ। তিনি জানান, অভাবের কারণে নিজের পড়াশোনা সপ্তম শ্রেণির বেশি এগোয়নি, সেই আক্ষেপ থেকেই তিনি সন্তানদের শিক্ষিত করতে চান। ছোটবেলায় মাকে হারানো ফারজানা মামার বাড়িতে বড় হয়েছেন এবং গৃহস্থালির কাজ করেছেন, তাই নিজের অপূর্ণতা সন্তানদের দিয়ে পূরণ করতে চান তিনি।
তাঁদের মাটির দেয়ালের জীর্ণ ঘরটিতে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ভিড়ে এক কোণে টেবিলের ওপর সাজানো রয়েছে সন্তানদের বই। ঘরের অবস্থা খারাপ হওয়ায় স্থানীয় লুৎফর মাস্টার তাঁকে সাময়িকভাবে একটি ঘর ব্যবহার করতে দিয়েছেন, যেখানে বসেই ফারজানা সেলাইয়ের কাজ করেন। চোখের সমস্যার কারণে সুঁইয়ে সুতা পরাতে কষ্ট হলেও থেমে নেই তাঁর কর্মস্পৃহা। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নই তাঁকে প্রতিদিনের সংসারের হিসাব মেলানোর শক্তি জোগায়।

















