আড্ডার মধ্যে তোমার কোনো বন্ধু হয়তো খুব কনফিডেন্সের সঙ্গে বলে বসল, ‘জানিস, আমরা কিন্তু আমাদের মস্তিষ্কের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করি!’ তুমি যেহেতু বিজ্ঞান নিয়ে একটু–আধটু পড়াশোনা করো, তুমি খুব ভালোভাবেই জানো যে এটা ডাহা মিথ্যা কথা। ৩০ বছর বয়সে বন্ধুদের আড্ডায় কথাটা বলার পর সবাই যখন হাঁ করে তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল, তখন তিনি বুঝতে পারেন, কত বড় বোকামি করেছেন! সবসময় নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে চাওয়ার একটি সামাজিক মূল্য দিতে হয়।
ভুল তথ্য সংশোধন করা জরুরি, কারণ আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কোনো মিথ্যা তথ্য চ্যালেঞ্জ না করলে তা বারবার প্রচারের ফলে মানুষ সেটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে। কারো ভুল ধরার আগে মাথায় এই পাঁচটি বিষয় রাখা জরুরি: ১. সম্পর্ক যত ক্যাজুয়াল, ভুল শুধরে দেওয়া তত সহজ। ২. বিষয়টি কতটা সিরিয়াস—আড্ডার ছলে কেউ যদি বলে বসে, ‘অ্যাভাটার’ মুভিটা তো ২০০৭ সালে রিলিজ হয়েছিল (আসলে ২০০৯ সালে), তবে সেটা নিয়ে তর্ক করার কোনো মানে নেই। ৩. নিজের এনার্জি সঠিক জায়গায় খরচ করো। ৪. ফিলিপ ম্যাকগ্রো নামের বিখ্যাত এক মার্কিন চিকিৎসকের একটা দারুণ উক্তি আছে, ‘তুমি কি সঠিক হতে চাও, নাকি সুখী হওয়াটা বেশি জরুরি?’
তবে ভুল ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সবার সামনে কাউকে ভুল প্রমাণ করলে সে অপমানিত বোধ করতে পারে। মনোবিজ্ঞানের ‘ডানিং-ক্রুগার ইফেক্ট’ অনুযায়ী, কম জানা ব্যক্তিরা অনেক সময় বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকেন। কাউকে ছোট না করে ভুল শুধরে দেওয়ার সেরা উপায় হলো তাকে একা পেয়ে বিনয়ের সাথে বিষয়টি বলা। এতে তার সম্মান বজায় থাকে এবং সে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে। মনে রাখা জরুরি, তর্কে জেতা নয়, বরং সঠিক তথ্য প্রচার এবং অন্যের কাছ থেকে নতুন কিছু শেখার মানসিকতাই একজন স্মার্ট মানুষের পরিচয়।

















