আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় নিউইয়র্কের ভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোসহ বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তিত্ব। তবে গ্যালারিতে ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থার (উয়েফা) প্রধান অ্যালেক্সান্ডার সেফেরিনকে দেখা যায়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ফিফার সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করতেই তিনি এই ফাইনাল ম্যাচটি বয়কট করেছেন।
ফিফা ও উয়েফার মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এর অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বাতিলের বিষয়টি। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে বালোগান লাল কার্ড দেখলেও, পরবর্তীতে ফিফা কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই তা স্থগিত করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিযোগ রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইনফান্তিনো এই পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। উয়েফার মতে, ফিফা স্বাগতিক দেশের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে। উয়েফা ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটির এই সিদ্ধান্তকে ‘অভূতপূর্ব, অবোধ্য ও অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে এবং একে ‘সীমা লংঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এছাড়া সোমালি রেফারি ওমর আর্তানকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ফিফার নীরবতা উয়েফাকে ক্ষুব্ধ করেছে। এর প্রতিবাদ হিসেবে উয়েফা আগামী মাসের সুপার কাপ ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব আর্তানকেই দিয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানের সঙ্গে আয়োজকদের আচরণ এবং ফিফার বেশ কিছু নিয়ম, যেমন হাইড্রেশন ব্রেক ও ভিএআর প্রটোকলের মিসটেকেন আইডেন্টিটি নিয়েও উয়েফা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এসব নিয়মের কারণে সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এম্বোলোর মতো খেলোয়াড়রা লাল কার্ডের শিকার হয়েছেন।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ৪৮ দলের অন্তর্ভুক্তি এবং টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন সেফেরিন। যদিও ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে তিনি স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন, তবে ফাইনাল বয়কটের মধ্য দিয়ে তিনি ফিফার প্রতি তার কঠোর অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করলেন।

















