দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বুধবার (২২ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই মূল্য নির্ধারণের কথা জানানো হয়, যা ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৭৪১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে।
বাজুস স্পষ্ট করেছে যে, অলংকার তৈরির ক্ষেত্রে ক্রেতাকে নকশা ও কারুকাজের ওপর ভিত্তি করে মজুরি দিতে হবে। বিক্রয়মূল্যের ভেতরেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদা করে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে অলংকার বিনিময় বা পুরোনো স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। এর আগে ২১ জুলাই স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল, যখন প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বাজুস মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪৫ বার, কমানো হয়েছে ৪৭ বার এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরে রুপার দাম ৫৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৯ বার দাম বেড়েছে এবং ২৮ বার কমেছে। এছাড়া ২০২৫ সালে রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় হয়েছিল, যেখানে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং ৩ বার কমেছিল।

















