সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে নৈতিক স্খলনের দায়ে তাঁকে বহিষ্কারের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির শফিকুর রহমান।
দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি জানান, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে একটি সাংগঠনিক তদন্ত চালানো হয়। তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তের কথা নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে জানানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
গত সোমবার রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁকে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী প্রাথমিকভাবে একে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কারসাজি বলে দাবি করেছিলেন। তবে পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। সংসদ সদস্যের দাবি অনুযায়ী, গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে ঢাকার মরিয়ম বেগমের বাবার বাসভবনে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে তাঁর বিচার দাবি করেছেন।

















