বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের আবেদন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে সরকার ‘বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে। রোববার প্রকাশিত এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক প্রয়োজনে এবং ব্যক্তিগত আবেদনের ভিত্তিতে বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলো প্রযোজ্য হবে। তবে জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় যেকোনো কর্মকর্তাকে যেকোনো স্থানে বদলি বা পদায়ন করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
নতুন নীতিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। এখন থেকে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের ক্ষমতা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করবে। এর আগে সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলির ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের কাছেই কেন্দ্রীভূত ছিল, যা নতুন ব্যবস্থায় আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
নীতিমালায় বদলির আবেদনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকরা চাকরিতে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। একইভাবে, অন্য কর্মকর্তারাও বর্তমান কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত বদলির আবেদনের সুযোগ পাবেন না। তবে গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক সমস্যার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা শিথিলযোগ্য। এছাড়া অসম্পূর্ণ তথ্যসংবলিত আবেদন কিংবা পার্সোনাল ডাটা শিট (পিডিএস) হালনাগাদ না থাকলে তা বিবেচনা করা হবে না।
আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পেশাগত প্রয়োজন, আবেদনকারীর পারিবারিক সমস্যা, পরিবারের সদস্যদের দূরারোগ্য অসুস্থতা এবং নিজ জেলা থেকে কর্মস্থলের দূরত্বের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই চাকরিজীবী হলে একে অপরের কর্মস্থলের নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া অবসর-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার এক বছর আগে সুবিধাজনক স্থানে বদলির আবেদন করলে শূন্য পদ সাপেক্ষে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বদলির জন্য প্রাপ্ত আবেদনগুলো একটি নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে। এছাড়া উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি কলেজগুলোতে শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

















