তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা এবং পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই কমিশনের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শুক্রবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজের সভাকক্ষে বরিশাল টেলিভিশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সকলের সহযোগিতায় একটি গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে। এই কমিশন গঠিত হলে সৎ সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করার জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে অসৎ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
সভায় বিটিএমএ সভাপতি ও এটিএন বাংলার ব্যুরো প্রধান হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তরের ব্যুরো প্রধান আক্তার ফারুক শাহীন, বরিশাল জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও আমার দেশ-এর বরিশাল অফিস প্রধান নিকুঞ্জ বালা পলাশ এবং সাধারণ সম্পাদক ও ইত্তেফাকের বরিশাল অফিস প্রধান শাহীন হাফিজসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বরিশাল মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, আজকের পরিবর্তন-এর সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, বরিশাল প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম মোফাজ্জেল হোসেন, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মো. আল মামুন, একুশে টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান সুখেন্দু এদবর, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মামুনর রশিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তন্ময় তপু, সিনিয়র সাংবাদিক জিয়া উদ্দীন বাবু, নাগরিক টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান শাহীন হাসান এবং দেশ টিভির মাহমুদ শাকিলসহ অনেকে সভায় অংশ নেন।
এর আগে সকালে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বরিশাল পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ধর্ম ও বর্ণ বিবেচনায় কোনো ধরনের চক্রান্ত বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। যখনই কোনো মহল ধর্ম বিশ্বাস ও চর্চাকে সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার চেষ্টা করবে, তখনই ধর্মপ্রাণ মানুষ সেই ধর্মব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করবেন। ওই অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল আলম ফরিদ, পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে এবং বিজয় কৃষ্ণ দে-সহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

















