কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে একটি স্পিডবোটের ট্রায়াল দেওয়ার সময় সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে শরিফুল ইসলাম রবি (৪০) নামে এক দেহরক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার গোলাপনগর বাগগাড়ি পাড়া সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। আহত শরিফুল ইসলাম রবি মনি পার্কের স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম মনিরের দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত আলমগীর হোসেনের পুত্র।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনি পার্কের মালিক মনিরুল ইসলাম মনি কিছুদিন আগে একটি নতুন স্পিডবোট ক্রয় করেছিলেন। দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত থাকার কারণে বোটটি বিকল হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে একজন প্রকৌশলী এনে সেটিতে নতুন ইঞ্জিন স্থাপন করা হয়। শুক্রবার ভোরে নতুন ইঞ্জিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য তারা স্পিডবোটটি নিয়ে পদ্মা নদীতে নামেন। এ সময় ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী আচমকা স্পিডবোটটি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে।
সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া একটি গুলি রবির বাম হাতের পেশি ভেদ করে বুকের বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, যার ফলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। ঘটনার পরপরই আহত অবস্থায় রবিকে উদ্ধার করে প্রথমে ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

















