জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি ও বিভিন্ন দাবির সমর্থনে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী টানেল মোড়ে আয়োজিত এক গণসমাবেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল আলম। বুধবার বিকেলে আয়োজিত এই সমাবেশে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তিনি কড়া সমালোচনা করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় জোবাইরুল আলম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা ইউএনও এবং ওসির কাছে প্রশ্ন করতে চাই, আপনারা কি ৩৬ জুলাই দেখেন নাই? তখন কীভাবে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা থানা জ্বালিয়ে দিয়েছিল এবং জনগণের টাকায় চলা পুলিশকে আমরা পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিলাম, তা কি দেখেন নাই?’ তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা তিনি নিজেও শেয়ার করেছেন। ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, তৎকালীন প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তখন নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সহায়তা করেছিল।
বর্তমানেও উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের বিরুদ্ধে দলীয় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে জোবাইরুল আলম বলেন, ‘আমরা যখন বিরোধী দল থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে যাই, তখন তারা আমাদের এমপির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেয়। এমপির নির্দেশনা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না।’ এছাড়া সরকারি বিভিন্ন সহায়তা ও ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে তিনি দাবি করেন, সাধারণ তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সুপারিশের জন্য এমপির কাছে পাঠানো হচ্ছে।
সমাবেশটি আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আবদুল গনির সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে এনসিপি নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কেউ পুনরায় আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করতে চায়, তবে তা বরদাস্ত করা হবে না।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জোবাইরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ভিডিওতে তার বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ অংশ আসেনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই না জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়ুক বা জুলাই আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি প্রশাসনের সঙ্গে তৈরি হোক। আমরা মূলত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই এই বক্তব্য দিয়েছিলাম।’

















