যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ম্যামথ কেভ বিশ্বের দীর্ঘতম পরিচিত গুহা ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে এর ৬৮৬ কিলোমিটার বা ৪২৬ মাইল অংশ অনুসন্ধান ও মানচিত্রে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এই বিশাল ভূগর্ভস্থ জগতটির গভীরতা প্রায় ১১৮ মিটার বা ৩৭৯ ফুট এবং এর অভ্যন্তরে পাঁচটি স্তরে বিস্তৃত রয়েছে অসংখ্য সুড়ঙ্গ ও পথ। গুহাটির বিশালতা অনুধাবন করতে গেলে বলা যায়, এর অনুসন্ধান করা দৈর্ঘ্যের পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের উপকূলরেখার চেয়েও বেশি। গবেষকদের ধারণা, এই গুহার আরও অনেক অংশ এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে।
হাজার বছর ধরে মানুষ এই গুহার সঙ্গে পরিচিত। ধারণা করা হয়, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে আদিবাসী জনগোষ্ঠী অন্ধকার এই গুহার গভীরে প্রবেশ করেছিল। পরবর্তীকালে ১৮৪০-এর দশকে স্টিফেন বিশপ নামের একজন দাসত্বের শিকার গাইড গুহাটির অন্যতম প্রথম মানচিত্র তৈরি করেন। ১৯৭২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর একদল অনুসন্ধানকারী প্রায় ১২ ঘণ্টার অভিযানের মাধ্যমে ফ্লিন্ট রিজ ও ম্যামথ কেভ ব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ খুঁজে পান। এই সংযোগ আবিষ্কারের আগে ফ্লিন্ট রিজকেই দীর্ঘতম গুহা মনে করা হতো। সংযোগটি পাওয়ার পর দুটি গুহা সম্মিলিতভাবে ম্যামথ কেভ নামে পরিচিতি পায় এবং এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ২৩২.৩৯ কিলোমিটার বা ১৪৪.৪ মাইল, যা পরবর্তীতে আরও বিস্তৃত হয়েছে।
অনন্য চুনাপাথরের গঠন এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের কারণে ২০০২ সালে ইউনেস্কো ম্যামথ কেভ ন্যাশনাল পার্ককে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে। এখানে প্রায় ১৩০ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে, যা বিশ্বের গুহাভিত্তিক জীববৈচিত্র্যের অন্যতম সেরা উদাহরণ। গুহার ভেতরে মাছ শিকারি মাকড়সা, সাধারণ কেভ ক্রিকেট, অ্যালেগেনি উডর্যাট এবং রাফিনেস্কের বড় কানওয়ালা বাদুড়ের দেখা মেলে। এছাড়া এখানে বিরল প্রজাতির গুহা বিটল এবং গুহার পানিতে বসবাসকারী বিশেষ প্রজাতির মাছ বা কেভ ফিশ পাওয়া যায়, যারা তাদের পুরো জীবনচক্র গুহার ভেতরেই কাটায়।
গুহাটির বাইরের এলাকাও প্রাণবৈচিত্র্যে ভরপুর। পার্কের আশপাশে সাদা-লেজের হরিণ, বাল্ড ঈগল, লাল-লেজের বাজ এবং ইস্টার্ন কপারহেড সাপের মতো প্রাণীর দেখা পাওয়া যায়। এছাড়া ২০২৫ সালে এখানে প্রাচীন হাঙরের একটি নতুন প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ম্যাকাডেন্স অলসোনাই।
তুলনা করলে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বা ২৫০ মাইল।

















