আইন ও আদালত

হাসিনার শাসনামলে দেশে অমানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

প্রতিবেদক
সব খবর

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দেশে একটি ‘অমানবিক রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। শনিবার ৮ আগস্ট গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত ও বিচারের অংশ হিসেবে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘আয়নাঘর’ বা নির্যাতনকেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন। এসব গোপন বন্দিশালায় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ ভিন্নমতের ব্যক্তিদের দিনের পর দিন, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো।

তদন্ত সংস্থার তথ্য ও সাক্ষীদের বয়ান অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জেআইসিতে নিয়ে নির্যাতনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে সেখানে বন্দি রাখা হয়েছিল বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

ভবিষ্যতে এ ধরনের বন্দিশালা যেন আর না গড়ে ওঠে, সে বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে, তবে কোনো নাগরিক যেন বিচারবহির্ভূত হত্যা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে অযথা হয়রানির শিকার না হন। তিনি জানান, জেআইসি ও টিএফআই সেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে এবং তদন্তে ভবিষ্যতে কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

শনিবার ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন বিচারক, প্রসিকিউশন দল ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেআইসি পরিদর্শন করেন। চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্যমতে, সরেজমিনে এই স্থাপনা পরিদর্শন বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে গত ১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উত্তরায় র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের কম্পাউন্ডে থাকা আরেকটি কথিত আয়নাঘর পরিদর্শন করেছিলেন।

সব খবর