দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ইউএনওদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় ৮৩টি উপজেলার ইউএনওদের প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানানো হয়, যারা খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগটি বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহাজ-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণ ও সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি আপনার নিজের এলাকা না হলেও সেখানকার মানুষজন আপনার আপনজনদের মতোই। দেশ গড়ার কাজে সবাইকে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করতে হবে। তিনি কেবল আইনের ওপর নির্ভর না করে মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দেন। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় গাছ রোপণে উৎসাহ প্রদান এবং তরুণদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের নির্দেশ দেন তিনি।
সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে, যা সমাজের শান্তি নষ্ট করছে। তাই মানুষের প্রতি দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান এবং জানান যে শিশুদের পাঠ্যবইয়ে মানবিকতা ও প্রাণিকুলের প্রতি মায়ার বিষয়গুলো যুক্ত করা হচ্ছে।
সভায় ইউএনওরা খাল খননের ফলে স্থানীয় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে আসা ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, এখন সেখানে তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করা।
উক্ত সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ইউএনওদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন।

















