অর্থনীতি

পিরোজপুরে ডিমের দাম বাড়লেও লোকসানে খামারিরা, বন্ধের পথে ৩০০ খামার

প্রতিবেদক
সব খবর

পিরোজপুরে বাজারে ডিমের দাম বৃদ্ধি পেলেও পোলট্রি খামারিরা কোনো স্বস্তি পাচ্ছেন না। মুরগির খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় ব্যাপক বেড়েছে। ফলে বাজারে ডিমের বাড়তি দামের সুফল খামারিদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। লোকসান সামাল দিতে না পেরে জেলার প্রায় ৩০০টি পোলট্রি খামার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জেলায় বছরে প্রায় ৩১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব ডিম রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার সিকদার জানিয়েছেন, পিরোজপুরে সাড়ে চার হাজারের বেশি খামার রয়েছে। নতুন করে ১৬০টি খামার গড়ে উঠলেও, উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে ৩০০টির মতো খামার বন্ধের পথে।

খামারিদের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা জুলাইয়ের শুরুতে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা ছিল। ডজনে প্রায় ২০ টাকা দাম বাড়লেও তাদের লাভ থাকছে না। সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের খামারি ইমন শেখ জানান, মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা কম দামে ডিম কিনে মজুত করেন এবং পরে বেশি দামে বাজারে ছাড়েন, যার ফলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের প্রসেনজিৎ হাওলাদার ও নেছারাবাদের দৈহারি ইউনিয়নের ফিরোজ শেখের অভিযোগ, মুরগির বাচ্চার দামসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ বেড়ে গেছে। এছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে খামার থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে ডিমের দামে বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, ডিমের সিন্ডিকেট ভাঙা এবং খাবার ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ না করলে পোলট্রি শিল্প বড় সংকটে পড়বে।

এদিকে ডিমের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিক্রেতাদের মতে, গত মাসের তুলনায় আগস্টে ডিমের বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সাধারণ ক্রেতারাও মাছ-মাংসের বিকল্প হিসেবে ডিম কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মতে, খামারি থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতিটি ডিমে দুই থেকে তিন টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়, যা মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ঘটছে।

সব খবর