বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় গত ছয় মাসে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জাতীয় সংসদে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো এবং আয় বাড়ানোর সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলেই এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য দেন। তিনি বলেন, গত ছয় মাসে রেলওয়ের আয় ২২৫ কোটি টাকা বাড়লেও একই পরিমাণে লোকসানও কমেছে। তবে, চলতি বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা।
রেলওয়ের আর্থিক বোঝা কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দেশের অনেক রেললাইন ১৯৩০, ১৯৪০ ও ১৯৭০-এর দশকে স্থাপিত হওয়ায় পুরোনো মিটারগেজ লাইনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া কিছু রেলওয়ে সরঞ্জামের যন্ত্রাংশ সহজলভ্য না হওয়ায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
লাভজনক কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই রুটে যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে ইঞ্জিন ও কোচের সংকটের কারণে বর্তমানে মাত্র দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহের জন্য সরকার ইতোমধ্যে দুটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও, কক্সবাজার রুটে বেসরকারি খাতে ট্রেন পরিচালনার জন্য সরকার কয়েকটি প্রস্তাব পেয়েছে। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা ও বিবেচনা করা হচ্ছে এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোগেও অল্প সময়ের মধ্যে এই লাভজনক রুটে ট্রেনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

















