বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) আইন মেনে অনুমোদন পাওয়া বাসগুলো সড়কে চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন। বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশনা প্রদান করেন। সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, স্লিপার এসি বাসগুলোর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং এগুলো যেন আটক, জব্দ বা ডাম্পিংয়ের শিকার না হয়।
বিআরটিএর আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, বিআরটিএ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের নিবন্ধন দিলেও ‘স্লিপার বাস’ নামে কোনো ক্যাটাগরি নেই। তিনি দাবি করেন, বিআরটিএ কোনো স্লিপার বা ডাবল ডেকার বাসের অনুমোদন বা নিবন্ধন দেয়নি। তার মতে, যেসব বাসের নিবন্ধন, অনুমোদন বা রুট পারমিট নেই, সেগুলো চলাচলের অনুমতি পেতে পারে না। রাফিউল ইসলাম আরও বলেন, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন ও ২০২২ সালের সড়ক পরিবহন বিধিমালা অনুযায়ী বিআরটিএ যেসব বাসের নিবন্ধন দিয়েছে, কেবল সেগুলোই সড়কে চলতে পারবে বলে আদালত আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া অমনি বাস হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে কাঠামো পরিবর্তন করে ডাবল ডেকার স্লিপার বাসে রূপান্তর করা সড়ক পরিবহন আইনের ৪০ ধারার লঙ্ঘন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, মালিকপক্ষের আইনজীবী মাহফুজার রহমান জানিয়েছেন, অনেক দিন ধরেই স্লিপার বাসগুলো অমনি বাস হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে বৈধভাবে চলাচল করছে। তিনি জানান, গত ২ জুলাই একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্লিপার বাসের মান নিয়ে বিআরটিএকে কিছু নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই মান নিরূপণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই ১১ আগস্ট থেকে বিআরটিএ অভিযান শুরু করলে মালিকপক্ষ আদালতে এই আবেদন করে। মাহফুজার রহমান দাবি করেন, বিআরটিএর বৈধ অনুমোদন পাওয়া বাসগুলো আটক বা জব্দ না করতে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।
সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচলের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান রিট করেছিলেন। এরপর গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরবর্তী নির্দেশনায় আদালত কতটি বাসের অনুমতি আছে এবং অননুমোদিত বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিবেদন চেয়ে বিআরটিএকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিআরটিএ প্রতিবেদন দাখিল করে এবং সবশেষে মালিকপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নতুন আদেশ দিলেন।

















