খেলা

তানজিদ-শান্তের সেঞ্চুরির পথে বাংলাদেশের দাপট, ১৫৩ রানে এগিয়ে

প্রতিবেদক
সব খবর

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রান। বাংলাদেশের এই শক্তিশালী অবস্থানে মূল কারিগর ছিলেন তানজিদ হাসান, যিনি তার ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। তিনি ১৯৭ বলের ইনিংসে ৮টি চার ও একটি ছক্কায় ১০১ রান করেন। সাদা বলের ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত তানজিদ এই টেস্টে ধৈর্য ধরে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় উইকেটে কাটিয়েছেন।

বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে উঠেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জুটির মাধ্যমে। দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ ও মুমিনুল হক ১০২ রানের জুটি গড়েন। মুমিনুল ৪৯ রান করে আউট হওয়ার আগে টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে যান। এরপর তানজিদের সঙ্গে ৯৩ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শান্ত ১২৬ বলের ইনিংসে সাতটি চার ও একটি ছক্কা মেরে ৮৪ রান সংগ্রহ করেন, যদিও সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও তা পূর্ণ করতে না পারার আক্ষেপ তার রয়েই গেছে।

অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নেওয়ার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। মাত্র ৪.৫ ওভারের মধ্যে তাদের তিন পেসার জশ হ্যাজলউডের বলে শান্ত, মিচেল স্টার্কের বলে লিটন দাস এবং প্যাট কামিন্সের বলে মুশফিকুর রহিমকে আউট করেন। এই তিনটি ক্যাচই নেন স্টিভেন স্মিথ। স্মিথের জন্যও দিনটি ছিল বিশেষ, কারণ এই তিন ক্যাচ নিয়ে তিনি টেস্টে নন-উইকেটকিপার ফিল্ডার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার তালিকায় জো রুটের সঙ্গে সমতায় আসেন।

অস্ট্রেলিয়া আশা করেছিল বাংলাদেশের নিচের সারির ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে ইনিংস গুটিয়ে ফেলবে। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ সেই সুযোগ দেননি। তারা দুজন মিলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিন শেষ করেছেন। নতুন বলের চ্যালেঞ্জ সামলে প্রথমে উইকেটে টিকে থাকা এবং পরে সুযোগ বুঝে রান বাড়িয়ে নেওয়া ছিল তাদের লক্ষ্য।

দিনের শুরুতে তানজিদ ও মুমিনুলের ব্যাটে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের বল ছেড়ে খেলেছেন এবং সঠিক সুযোগের অপেক্ষা করেছেন। প্রথম ঘণ্টায় মাত্র তিনটি চার আসে। এরপর বিউ ওয়েবস্টারকে ছক্কা মেরে তানজিদ শতরানের জুটি পূর্ণ করেন। তবে পরের ওভারেই মুমিনুল হ্যাজলউডের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। অন্যদিকে, ৬২ রানে জীবন পাওয়ার পর তানজিদ আর পেছনে ফিরে তাকাননি। নাথান লায়নের বলে তার একটি ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন স্মিথ।

লাঞ্চের পর তানজিদ হ্যাজলউডকে লফটেড ড্রাইভে চার মেরে এগিয়ে যান। পরে স্টার্ককে গ্লাইড করে চার মেরে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের রান ছাড়িয়ে দেন। নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছানোর পর কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়লেও, অধিনায়ক শান্ত বেশি করে স্ট্রাইক নিয়ে তাকে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত লং-অফে এক রান নিয়ে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন তানজিদ। দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের জন্য দিনটির সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল। পরের ওভারেই লায়নের বলে আউট হলে তিনি ডারউইনের দর্শকদের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পান।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় নতুন বলের আঘাতে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়লেও, মেহেদী ও হাসান মাহমুদের প্রতিরোধে সেই চাপ কেটে যায়। ১৫৩ রানের বিশাল লিড নিয়ে তৃতীয় দিনে নামবে বাংলাদেশ, এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন স্পষ্টভাবেই তাদের হাতে রয়েছে।

সব খবর