কৃষকদের মধ্যে অতিরিক্ত কীটনাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের প্রবণতা ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক জটিলতা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার বিএআরসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত গভর্নিং বডির ষষ্ঠ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক বা জৈব সারের সঠিক ব্যবহার মাটি, পরিবেশ, পানি ও মাছের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও এই খাতের পরিধি ও গবেষণার কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি জানান, উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে বিলিয়ন ডলারের মাংস ও মাংসজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এছাড়া মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সরকার পুরস্কৃত করছে এবং প্রাকৃতিক উৎসের মাছ সংরক্ষণে অভয়াশ্রম স্থাপনের মতো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মাটির স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, সার বা পেস্টিসাইডের প্রভাবে মাটিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ছে কি না, তা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। বর্তমানে অনেক এলাকায় মাটির পিএইচ মাত্রা ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫-এর মধ্যে রয়েছে, যা ফসলের জন্য আদর্শ নয়। ভালো ফলন নিশ্চিত করতে মাটির পিএইচ ৬ দশমিক ৫-এর ওপরে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সভায় তিনি সরকারি সিদ্ধান্তগুলোর নিয়মিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং গবেষকদের মেধা ও জ্ঞানকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। এছাড়া কৃষকদের পরামর্শ সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপটি ব্যাপকভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেন তিনি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএআরসি গভর্নিং বডির কো-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু সভায় বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনগুলোকেও জাতীয় প্রয়োজনে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। তিনি দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য শিরীন সুলতানা, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এবং বিভিন্ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

















