সাংবিধানিক নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তর প্রধান এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ বিভিন্ন সংস্থা প্রধানরা।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বিগত সরকারের সময়ে যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এই গণতান্ত্রিক সরকার সেভাবে নির্বাচন করবে না। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার কাজ করছে। সংবিধানের নিয়মকানুন মেনে ও সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী মন্ত্রণালয় যা সরাসরি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে কাজ করে। মন্ত্রণালয় সফল হলে সরকারও সফল হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার সব মানুষের সেবা করবে, তবে দরিদ্র মানুষের সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিগত ১৭ বছরে ধনিক শ্রেণিকে সেবা দিতে গিয়ে দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দরিদ্র মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছেন এবং ভবিষ্যতেও দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষে কাজ করা হবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। দুর্নীতি করলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শুধু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের সব পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।
বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা আইনের শাসনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তা পুনরুদ্ধার করেছিলেন। বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস করার অভিযোগ তুলে মঈন খান বলেন, তারা বিচার ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দিয়েছিল, যেখানে বিচারের রায় মন্ত্রণালয়ে লেখা হতো। বর্তমানে সরকার কোনো ধরনের উইচ হান্টিংয়ে বিশ্বাস করে না, বরং প্রধানমন্ত্রী সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সিস্টেম ফিরিয়ে আনার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ঘিরে যে লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে তারা কাজ করছেন।

















