আগামীকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) সারা দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে। এ উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবী, ব্যাংকার এবং অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের ছুটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি ও আধা-সরকারি অফিসের পাশাপাশি সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় এই ছুটি কার্যকর থাকবে। গত ১৩ আগস্ট জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ আগস্ট থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হওয়ায় ১২ রবিউল আউয়াল হিসেবে ২৬ আগস্টের ছুটি নির্ধারিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের তালিকা অনুযায়ী, এদিন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এবং সাধারণ ব্যাংকিং লেনদেন হবে না। তবে এটিএম, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং কার্ডভিত্তিক ডিজিটাল সেবাগুলো স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সংশোধিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকবে। মাদরাসার ক্ষেত্রে ২৬ ও ২৭ আগস্ট দুই দিনের ছুটি রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নোটিশ অনুসরণ করতে হবে।
সরকারিভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও বেসরকারি অফিস, কারখানা, দোকান বা শপিংমলের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১১৮ ধারা অনুযায়ী, শ্রমিকরা বছরে পূর্ণ মজুরিতে ১৩ দিনের উৎসব ছুটি পাওয়ার অধিকারী, যা প্রতিষ্ঠান বা মালিকপক্ষ নির্ধারণ করে। একইভাবে দোকান, রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব সাপ্তাহিক ও উৎসবের ছুটির তালিকা অনুযায়ী খোলা বা বন্ধ রাখতে পারে।
হাসপাতাল, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অগ্নিনির্বাপণসহ জরুরি ও অত্যাবশ্যক সেবায় নিয়োজিতদের ক্ষেত্রে সাধারণ সরকারি অফিসের মতো সবার ছুটি থাকবে না। এসব প্রতিষ্ঠানে জনস্বার্থ ও নিজস্ব বিধি অনুযায়ী রোস্টারের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম চালু রাখা হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই ছুটির সুবাদে টানা চার দিন অবকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে, কারণ বুধবারের ছুটির পর বৃহস্পতিবার অফিস খোলা থাকলেও শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার ছুটি নিলে বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা ছুটি কাটানো সম্ভব।

















