পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। মঙ্গলবার জি ২৪ ঘণ্টার মেগা কনক্লেভে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, তার সরকার হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান করবে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কা দিয়ে দেশের বাইরে বের করে দেবে। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তার প্রশাসন পিছপা হবে না বলেও তিনি জানান।
শুভেন্দু অধিকারী নিজের সরকারের কাজের একটি খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের কারণেই পশ্চিমবঙ্গ আজ ভারতের অংশ। সরকারের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের অংশ হিসেবে তিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেন। রাজ্যে বিএনএস চালু করা এবং কেন্দ্রের সব প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নতুন বিমানবন্দরের জন্য সরকার ২ হাজার একর জমি চিহ্নিত করেছে।
কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতার অংশ হিসেবে চিকেন নেক সুরক্ষিত রাখতে সাতটি রাস্তা হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া হিলি, লালগড়, গোপীবল্লভপুর, এগরা, দাঁতন, দিঘা, জলেশ্বর, করিমপুর ও তেহট্টে রেল প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলে আটকে থাকা প্রায় ৫০০টি রাস্তা ও সেতু তৈরির জমিও কেন্দ্রকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো রাজ্যে কার্যকর করা হচ্ছে।
জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে ১ কোটি ৪৫ লাখ নারী অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে আরও ২০ থেকে ৩০ লাখ নারীকে এর আওতায় আনা হবে। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে মুক্ত রাখতে রামকৃষ্ণ মিশনের আচার্যদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। একইভাবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের শীর্ষ পদে একজন সৎ আইএএস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি জানান, বাম ও তৃণমূল আমলে হওয়া দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য মন্ত্রিগোষ্ঠীর মাধ্যমে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যে এই ছয় দফা কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।

















