গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে গত শনিবার দুপুরে পার্কের কর্মী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় চার দর্শনার্থী এবং পার্কের দুই কর্মচারীসহ মোট ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পার্কের আউটসোর্সিং কর্মী মো. ফরহাদকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আহত দর্শনার্থীরা হলেন রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা সালমা হোসেন (৪৪), তাঁর দুই ছেলে আহনাফ মাহিন (১৭) ও জারিফ (১৫) এবং তাঁদের গাড়িচালক মো. রাসেল (২৫)। অন্যদিকে, আহত পার্কের দুই কর্মচারী হলেন আউটসোর্সিং কর্মী মো. মুমিন ও মাসুদ রানা।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দর্শনার্থী সালমা হোসেন অভিযোগ করেন, কোর সাফারির দর্শনার্থী বাসের ভেতরে ময়লা-আবর্জনা থাকায় তাঁরা তা পরিষ্কারের অনুরোধ জানান। এ সময় পার্কের কর্মচারীরা তাঁদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে পার্কের কর্মীরা রড দিয়ে সালমার দুই ছেলে এবং গাড়িচালক রাসেলকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। সালমা হোসেনের আরও দাবি, এ সময় তাঁর প্রায় তিন ভরি ওজনের একটি সোনার চেইন ও নগদ ৮০ হাজার টাকা খোয়া যায় এবং একটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়।
তবে ভিন্ন দাবি করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্যমতে, বাসে ময়লা থাকাকে কেন্দ্র করে এক কর্মচারীর সঙ্গে দর্শনার্থীদের বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে দর্শনার্থীদের একজন ওই কর্মচারীকে মারধর করেন। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারেক রহমান জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য দর্শনার্থীদের অফিসে নিয়ে বসতে চাইলে তাঁরা পুনরায় উত্তেজিত হয়ে হামলা চালান, এতে পার্কের দুই কর্মচারী আহত হন।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী জানান, তাদের কর্মী মো. মুমিনকে হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে এবং তিনি শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এ ঘটনায় আউটসোর্সিং স্টাফ মো. ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















