বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ ও মতবিরোধ উসকে দেওয়ার জন্য ‘শত্রুরা’ সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মুসলিম দেশগুলোর সরকার ও সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন জাতিগত, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং ভৌগোলিক ভিন্নতাকে মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরির অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ভাষ্যমতে, মুসলিম বিশ্বের বিভক্তি ও শক্তির দুর্বলতার দিকে শত্রুরা তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং তারা উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা মুসলিম দেশগুলোর ওপর নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি মুসলিমদের সতর্ক করে বলেন, তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা জরুরি।
ফিলিস্তিন পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মোজতবা খামেনি প্রশ্ন রাখেন, মুসলিমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকত এবং এক মুষ্টিতে পরিণত হতো, তবে ফিলিস্তিনি জনগণ কি দখলদারদের নিপীড়ন ও অপরাধের মুখে এতটা অসহায় হয়ে পড়ত? পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ইসলামি ঐক্যের অধীনে থাকলে হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আসা ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘পরিচয়হীন’ ব্যক্তিরা ওই অঞ্চলের ভূমি ও সম্পদের প্রতি লোভ দেখানোর সাহস পেত না।
মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের উদ্দেশ্যে মোজতবা খামেনি বলেন, তাদের প্রকৃত শত্রুকে চিনতে হবে, শত্রুর পরিকল্পনা অনুধাবন করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী ও ইসরায়েলকে মুসলিমদের ঐক্য ও বন্ধুত্বের ‘শপথবদ্ধ শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, তারা শুধু ইরান, ইরানি জনগণ বা ইসলামি প্রতিরোধের বিরোধী নয়; বরং পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোসহ পুরো মুসলিম উম্মাহর প্রতি তাদের বৈরিতা রয়েছে।

















