ঢাকা মহানগরীর পরিবেশগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ ভিশন দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। এই লক্ষ্য অর্জনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গত সোমবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় সভাপতিত্বকালে মন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, খালের সীমানা নির্ধারণ ও খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌন্দর্যবর্ধন, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং ময়লার বিন প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দিনের বেলায় রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকলে তা শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়ায়। তাই রাতের বেলাতেই বর্জ্য সংগ্রহের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এছাড়া ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের জন্য রাস্তার দুই পাশে বারোমাসি ফুলের চারা রোপণের পরামর্শ দেন তিনি। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, নগরকে শুধু পরিষ্কার করলেই হবে না, একে নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, খাল পুনরুদ্ধার, সবুজায়ন, পরিচ্ছন্নতা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশনসহ সব অংশীজন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে।
সভায় ঢাকার চলমান উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়। কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৯টি খালের সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) খালগুলোর সীমানা নির্ধারণের কাজও চলমান রয়েছে। এছাড়া দুই সিটি কর্পোরেশনেই সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের কাজ অব্যাহত আছে। ইতিবাচক পরিবেশগত পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে জানানো হয়, ঢাকার মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্টে ইতোমধ্যে রাতে জোনাকির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চলমান কাজের প্রশংসা করে কাজের গতি আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই কার্যক্রমগুলো তদারকি করছেন। তাই কাজের বাস্তবভিত্তিক সমাধান, আগের ও পরের তুলনামূলক চিত্র এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রস্তুত করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, পিএসসি, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

















