রাজধানীর গুলশানে ফ্ল্যাট জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় এক বছরের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ ৫ নম্বর জজ আদালতে মামলার শুনানিকালে এ তথ্য জানান আসামি রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের আইনজীবী মজিবুর রহমান তালুকদার। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন স্থগিতাদেশের বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী বছরের ১১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।
আইনজীবী মজিবুর রহমান তালুকদার জানান, গত ৭ জুলাই উচ্চ আদালত মোশাররফ হোসেনের পক্ষে এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে মঙ্গলবার মামলার চার্জগঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ এপ্রিল কমিশনের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সরদার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশের মাধ্যমে কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এর একটি ফ্ল্যাট (বি/২০১, বাড়ি নং ৫এ ও ৫বি, বর্তমান ঠিকানা ১১৩, ১১বি, রোড নং ৭১) অবৈধভাবে দখল ও রেজিস্ট্রি করেন। মামলার পর শাহ খসরুজ্জামান তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করলে তিন মাসের স্থগিতাদেশ পান। পরে তদন্ত শেষে গত ১১ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত তা আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টিউলিপকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে। এর আগে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির পৃথক তিনটি মামলায় মোট ছয় বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।

















