গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকা দিনগুলোর জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল আদায় না করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেওয়া একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় তিনি এই দাবি জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদ সদস্য বলেন, ঢাকার শ্যামপুর, পোস্তগোলা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে এসব এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ বাসাবাড়িতেই গ্যাস সরবরাহ নেই। তিনি জানান, আগে বাসিন্দাদের পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বর্তমানে সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অধিকাংশ বাড়িতেই গ্যাস মিলছে না।
গ্যাস সংকটের কারণে শ্যামপুর শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, শিল্প মালিকেরা তাকে জানিয়েছেন যে উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমে গেছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কারখানাগুলো মাত্র ৩০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা বেকারত্ব বাড়িয়ে তুলবে।
ঢাকা-৪ আসনের বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস প্রবাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জয়নুল আবেদীন। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের কারণ এবং কবে নাগাদ তা স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবিও জানান তিনি।
সৈয়দ জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, যেসব দিন গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না, সেসব দিনের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল নেওয়া উচিত নয়। গ্যাস না পেয়েও গ্রাহকদের বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা বন্ধে মন্ত্রীকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পকারখানা সচল রাখার অঙ্গীকারের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

















