দেশের চলমান তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে চারটি প্রস্তাব পেশ করেছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াত। একইসঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স সেল গঠনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রস্তাবে নতুন কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত। তিনি জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারের বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণেই দেশে বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে “তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ” শীর্ষক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ খাতে আর কোনো ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দেওয়া হবে না। নতুন করে যে তিনটি রেন্টাল পাওয়ার কোম্পানিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা ‘নো পাওয়ার, নো মানি’ ভিত্তিতে করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই বিশ্বব্যাপী গালফ ওয়ারের প্রভাবে জ্বালানি সংকট শুরু হয়। তা সত্ত্বেও বোরো মৌসুমে কৃষকদের ক্ষতি যেন না হয়, সেজন্য সরকার ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। পরবর্তীতে পাচার রোধে সহনীয় মাত্রায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা গ্যাস বা জ্বালানি কোথা থেকে আসবে তা নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে এবং দেশের ভেতরে গ্যাস অনুসন্ধান না করে বিদেশ নির্ভরতা বাড়িয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “এই ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টি ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা রেখে গিয়েছেন, যা আমরা ইনহেরিট (উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত) করেছি। কিন্তু এখন বিদ্যুতের প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী যে নতুন রেন্টাল পাওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন, সেখানে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ নেই।” বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা জানি ওভার প্রাইসড (অতিরিক্ত দাম) দিয়ে জাতির পয়সা অপচয় করে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি এখন সেই চুক্তি বন্ধ করে দেই, তবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আর্বিট্রেশনে (সালিশি) যাবে এবং বিদ্যুৎ সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। এমনিতেই আমাদের বিদ্যুতের সংকট, এই মুহূর্তে আমরা ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ হারানোর ঝুঁকি নিতে পারি না। রাষ্ট্র পরিচালনায় ধৈর্য সহকারে এগোতে হয়।”
জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ীতে ল্যান্ড বেইজড (স্থলভিত্তিক) এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হচ্ছে। চায়নার সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে মাতারবাড়ীতে ১৮ মাসের মধ্যে তৃতীয় এফএসআরইউ (ভাসমান টার্মিনাল) স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বড়পুকুরিয়ায় দেশীয় কয়লা দিয়ে ৬২০ মেগাওয়াটের নতুন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হবে। পায়রায় দ্বিতীয় ধাপে ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের আলোচনা চলছে। মাতারবাড়ীতে এলপিজি গ্যাসের টার্মিনাল ও স্টোরেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উইন্ডমিলের (বায়ুবিদ্যুৎ) বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছরের জঞ্জাল, ফ্র্যাজাইল (ভঙ্গুর) ব্যাংকিং, ফ্র্যাজাইল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমরা ইনহেরিট করেছি। ছয় মাসের ভেতরে এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ওভারহলিং করে (ঢেলে সাজানো) সব সমস্যার সমাধান করে ফেলা সম্ভব নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, মানুষের যে ভোগান্তি হচ্ছে তা আমাদের সৃষ্ট নয়, এটি বিগত সরকারের রেখে যাওয়া জঞ্জালের ফল।”
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারের কাছে কোনো ‘ক্রেডিট’ না চেয়ে নিঃস্বার্থভাবে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিমের সহায়তার পাশাপাশি, এই সংকট কাটাতে মুখে আশ্বাস না দিয়ে বাস্তবসম্মত ও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সংসদে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের মিল না থাকার অভিযোগ করে তিনি বলেন, “বলা হয়েছিল মিটার চার্জ, ডিমান্ড চার্জ আর নেওয়া হবে না, কিন্তু ঠিকই নেওয়া হচ্ছে। ভুতুড়ে বিলের সমাধানের কথাও বলা হয়েছিল, কিন্তু তা কন্টিনিউ করছে।” বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের টাকা দিয়ে জনগণের টাকা ডাকাতি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
লোডশেডিংয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “দেশের ৮০ ভাগ লোক গ্রামে বসবাস করে। তাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও ১২-১৪ ঘণ্টা কারেন্ট থাকে না।” তিনি সংকট গোপন না করে সত্য স্বীকার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মহান সংসদে দাঁড়িয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকেরা বলেছেন, কোনো সংকট নেই! এসব হাস্যকর কথা বলে জাতির সাথে তামাশা করা উচিত নয়।”
তোষামোদী রাজনীতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “তেল নিয়ে দেশে সংকট চলছে, কিন্তু মুখের তেল (তোষামোদ) বন্ধ হলে দেশের তেলের সংকট আর হবে না।” তিনি সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “সরকার যদি সহযোগিতা চায়, তাহলে আমরা আমাদের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিমকে সরকারের সাথে যুক্ত করে দিতে পারি। একসঙ্গে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করব।”
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত প্রধানমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী যখন বলেছেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, তার সাথে গলা মিলিয়ে আমরাও দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই— ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে)!”
বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ফার্নেস অয়েলভিত্তিক (এইচএফও) বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং সরকার ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চলতি সপ্তাহেই চালু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ৫টি পাওয়ার প্লান্টের সাথে আমরা কথা বলেছি। আশা করছি এ সপ্তাহ থেকেই কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই এসব কেন্দ্র থেকে আমরা ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবো।”
সমুদ্রে গ্যাস উত্তোলনে বিগত সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি অভিযোগ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পরই আমরা গত ২৪ মে অফশোর বিডিং রাউন্ড উন্মুক্ত করেছি, যার মেয়াদ ৩০ নভেম্বর শেষ হবে। এছাড়া দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে ১০৬টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩০টির কাজ চলমান।” ভবিষ্যৎ গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এ বছরের মধ্যেই ন্যূনতম দুটি নতুন এফএসআরইউ (ঋঝজট) চুক্তির কথা জানান তিনি। এছাড়া মাতারবাড়িতে ল্যান্ড বেইজড (স্থলভাগ) এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য ট্রান্সেকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগের প্রক্রিয়া ও জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ সম্পন্ন করা হবে, যার ফলে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের সক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে।
বিদ্যুৎ বিলে মিটার ভাড়া মওকুফের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি করতে ২৯ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। তবে গ্রাহক চাইলে নিজ খরচে মিটার কিনে নিতে পারেন। ভুতুড়ে বিল সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী গ্রীষ্মকে সামনে রেখে রুফটপ সোলার স্থাপনে শিল্পোদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বাণিজ্যিক আমদানিকারকদেরও মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ মাস তাদের কোনো অগ্রিম আয়কর বা ভ্যাট দিতে হবে না। এছাড়া নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ আগামী ৩ বছরের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা আকর্ষণীয় মূল্যে সরকারের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন গ্রাহকরা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে আগামী বছর যেন আমরা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করতে পারি। আর ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের জ্বালানি খাতে কোনো সংকট থাকবে না।”
এদিকে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকলেও মূলত দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্তহীনতা ও সরকারের অযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই আজ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে চরম সংকট বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ বিলে মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ আদায়কে ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি। আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, “বিদ্যুৎ আর গ্যাস কারো দয়া নয়, এটি মানুষের অধিকার। মানুষ কর দেয়, বিল দেয়। সেই টাকায় ঘরে আলো জ্বলবে—এটাই ন্যায়বিচার।”
বিদ্যুৎ খাতের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জামায়াতের এই আইনপ্রণেতা বলেন, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। আর পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ চাহিদা মাত্র ১৭ থেকে সাড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। সক্ষমতার চেয়ে চাহিদা অনেক কম হওয়ার পরও দেশে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদকদের কাছে সরকারের বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। যার কারণে তারা কয়লা, তেল বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কিনতে পারছে না। ফলে উৎপাদন কমছে। অন্যদিকে এই উৎপাদকদেরকেই আবার বসিয়ে বসিয়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দেওয়া হচ্ছে।”
গত ১৭ বছরে অনশোর বা অফশোরে কোনো গ্যাসের কূপ খনন বা পুনঃখনন করা হয়নি অভিযোগ করে ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, “দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ৮৪৯ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৭০৯ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। প্রতিদিন গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ গত অর্থবছরে আমাদের গলার কাঁটা এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা।” সম্প্রতি একটি এফএসআরইউ-তে (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) আগুন লাগার ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কিনা, তা তদন্ত করে জাতিকে জানানোর দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি, এলএনজি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারদলীয় ব্যক্তিদের বিনা গ্যারান্টিতে লাইসেন্স দেওয়া এবং তৃতীয় এসএফআরইউ ক্রয়ে এক সরকারদলীয় সদস্যের আত্মীয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে স্বচ্ছতার স্বার্থে তা প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
ভুতুড়ে বিল ও অযৌক্তিক চার্জের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ নেয়া হবে না। কিন্তু এখনও তা নেয়া হচ্ছে। “হিসাব অনুযায়ী চার থেকে সাড়ে চার কোটি গ্রাহকের কাছ থেকে মাসে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা ডিমান্ড চার্জ এবং ৮০ থেকে ১৬০ কোটি টাকা মিটার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমি একে ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’ বলতে চাই। মানুষের ওপর এই জুলুম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে,” বলেন এই সংসদ সদস্য।
শুধু সমালোচনা নয়, সংকট উত্তরণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বেশ কিছু প্রস্তাবনাও সংসদে তুলে ধরেন ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘ওপেন এক্সেস’ পদ্ধতি চালু করে শিল্প কারখানাগুলোকে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার সুযোগ দেওয়া; সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তত্ত্বাবধানে কার্যকর একটি ‘জ্বালানি জরুরি সেল’ গঠন করা; দেশে প্রায় ৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, যা থেকে দ্রুত সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা; এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য সবার আগে জ্বালানি কেনার বকেয়া বিল পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট শুধু সম্পদের ঘাটতি নয়, সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো সিদ্ধান্তের গতিতে। বিদ্যমান সম্পদ ও নির্মিত অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলেই এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।”
‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’: প্রতিমন্ত্রীপ্রধানমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত বলেন, “১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রারম্ভে ‘উই রিভোল্ট’ বলেছিলেন, সঙ্গে সঙ্গে তার সাথীরাও বলেছিলেন ‘উই রিভোল্ট’। ঠিক তেমনিভাবে, সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী যখন বলেছেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, তার সাথে গলা মিলিয়ে আমরাও দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই— ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে)!”

















