দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত বৃটিশনিয়ন্ত্রিত বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে বৃটেনের সঙ্গে চলমান তীব্র বিরোধের মধ্যেই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। বৃহস্পতিবার এক ভাষণে তিনি দ্বীপপুঞ্জটির ওপর আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক অধিকার পুনর্ব্যক্ত করে তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দেন। মিলেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সেখানে ইসরাইল ও বৃটেনের যৌথ উদ্যোগে তেল উত্তোলন আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।
প্রেসিডেন্ট মিলেই সতর্ক করে বলেছেন যে, আর্জেন্টিনা সরকারের অনুমতি ছাড়া এই সম্পদ লুট হতে দেয়া হবে না। তিনি জানান, তেল অনুসন্ধানে সহায়তাকারী পরিষেবা সংস্থাগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বীপপুঞ্জসংলগ্ন নিজেদের দক্ষিণ সীমান্তে একটি নতুন নৌঘাঁটি গড়ে তোলার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৮৩৩ সাল থেকে ফকল্যান্ড বৃটেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ নিয়ে ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৬৪৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন বৃটিশ সেনা নিহত হয়েছিলেন। ২০১৩ সালের গণভোটে দ্বীপবাসী বৃটেনের অধীনে থাকার পক্ষে রায় দিলেও আর্জেন্টিনা বরাবরই সেটিকে অবৈধ বলে দাবি করে আসছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ফকল্যান্ড ইস্যুতে বৃটেনকে সরাসরি সহায়তার নিশ্চয়তা না দিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ নীতি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধে বৃটেনের পূর্ণ সহায়তা না পাওয়ায় ট্রাম্পের এই অবস্থানকে আর্জেন্টিনা তাদের কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

















