নেপালে গত সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে দেশটি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সম্পদ, আবাসন এবং অবকাঠামো মিলিয়ে মোট ৩৮৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি বা প্রায় ২৫৬ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি শুক্রবার রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ধর্মরাজ উপ্রেতি জানান, এটি এখন পর্যন্ত একটি প্রাথমিক হিসাব। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এই আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এর একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হবে। বন্যার পরবর্তী প্রাথমিক পুনরুদ্ধারের প্রথম চার মাসে সড়ক নির্মাণ, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের জন্য আরও প্রায় ৫ কোটি ২৬ লাখ ডলারের প্রয়োজন হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রায় ২০ হাজার বাড়ি নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। এর মধ্যে অন্তত ৭ হাজার ৫০০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন এনডিআরআরএমএ প্রধান। গত ২৬ আগস্ট চীনের সীমান্তবর্তী নেপালের পার্বত্য এলাকায় হিমবাহ ধসে ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ ঢল নামে। বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত নদীপথ ধরে নেমে এসে একের পর এক শহর ও গ্রাম প্লাবিত করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালে ১ হাজার ২৮৭ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এখনো ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যার প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি সড়ক, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে দুর্গত এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন কার্যক্রম অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

















