অস্ট্রেলিয়া সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের তাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসার সুযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো দেশটিতে অভিবাসনের উচ্চ হার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ভিসায় স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ আর থাকবে না। তবে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশের শিক্ষার্থীরা পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসার সুযোগ পাবেন।
বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্বামী-স্ত্রী ও সঙ্গীরা অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করার সুযোগ পান, যদিও তাদের কাজের সময়সীমা পড়াশোনার ধরনের ওপর নির্ভর করে। নতুন ব্যবস্থায়, উচ্চতর যোগ্যতার দিকে অগ্রসর হলেই কেবল বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষার্থী ভিসা নবায়ন করতে পারবেন। এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ভ্রমণকারীদের অন্য কোনো ভিসায়, যেমন সঙ্গী ভিসায় আবেদন করে দেশটিতে থেকে যাওয়ার সুযোগও সীমিত করা হবে। সব ভিজিটর ভিসায় ‘নো ফার্দার স্টে’ শর্ত যুক্ত করা হবে।
ব্যাকপ্যাকারদের জন্য, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান বাড়াতে ইচ্ছুক হলে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে লটারিভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হবে। সরকারের এই পদক্ষেপগুলোর ফলে দেশটির বার্ষিক নিট অভিবাসন ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজারে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ। করোনা মহামারির আগেও দেশটির নিট অভিবাসন প্রায় এই মাত্রায় ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসননীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হচ্ছে। কট্টর ডানপন্থি ওয়ান নেশন পার্টি চলতি সপ্তাহে তিন বছরের মধ্যে অস্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক উত্থানের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাম্প্রতিক সময়ে এসব পরিবর্তনের কাজ করা হয়েছে এমন ধারণা ভুল। অভিবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে অস্ট্রেলীয় ভোটারদের প্রধান উদ্বেগগুলোর মধ্যে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে এই খাত দেশটির অর্থনীতিতে ৫৩.৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার অবদান রেখেছে, যা দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম রপ্তানি খাত। তবে, দেশটির কেন্দ্র-বামপন্থি লেবার সরকার অভিবাসন কমানোর উদ্যোগে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে। গত চার বছরে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়ে ২,৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা এবং স্নাতকোত্তর ভিসার আবেদনকারীদের ন্যূনতম সঞ্চয়ের শর্তও কঠোর করা হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় দুই বছর পর অস্ট্রেলিয়া সীমান্ত খুলে দেওয়ায় দেশটিতে অভিবাসন দ্রুত বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও অস্থায়ী কর্মীদের আগমন এতে বড় ভূমিকা রাখে। ২০২৩ সালে নিট বিদেশি অভিবাসন সর্বোচ্চ ৫ লাখ ১৮ হাজারে পৌঁছালেও পরবর্তী দুই বছরে তা কমেছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া বছরে অস্ট্রেলিয়ার নিট বিদেশি অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার, যার অর্ধেকের বেশি ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।

















