বিশ্ব

ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ

প্রতিবেদক
মেট্রোরেলের বিপুল ব্যয়: ভাড়া কত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন মেট্রোরেলের বিপুল ব্যয়: ভাড়া কত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন অস্ট্রেলিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ সীমিত করছে অস্ট্রেলিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ সীমিত করছে এআই মডেলের অস্বাভাবিক আচরণে বাড়ছে উদ্বেগ, নতুন কাঠামো ঘোষণা ওপেনএআইয়ের এআই মডেলের অস্বাভাবিক আচরণে বাড়ছে উদ্বেগ, নতুন কাঠামো ঘোষণা ওপেনএআইয়ের ব্যয়বহুল বিদেশি পণ্য আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি ব্যয়বহুল বিদেশি পণ্য আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে তিন মেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে তিন মেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার নির্বাচন কমিশনে যুক্ত হলো 'না' প্রতীক, সংশোধিত বিধিমালা প্রকাশ নির্বাচন কমিশনে যুক্ত হলো ‘না’ প্রতীক, সংশোধিত বিধিমালা প্রকাশ আইসিসিতে প্রথমবার সশরীরে হাজিরা দিলেন রড্রিগো দুতের্তে আইসিসিতে প্রথমবার সশরীরে হাজিরা দিলেন রড্রিগো দুতের্তে ইরান ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাস ইরান ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাস সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা চলচ্চিত্র সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্যমন্ত্রী চলচ্চিত্র সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্যমন্ত্রী
সব খবর

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি ও বাণিজ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্যসহ মোট ১২টি দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইসরায়েলের এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া কতটা দ্রুত ও তীব্র হবে, তা হয়তো লন্ডনের কর্মকর্তারা ভাবেননি। গত সপ্তাহে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণার পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার থেকেও ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা একটি বৈরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট থেকে পশ্চিম তীরে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো এবং রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টারটির কাজ ছিল গাজা উপত্যকায় স্থিতিশীলতা ফেরানো ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করা।

যুক্তরাজ্য ও আরও ১১টি দেশের নেওয়া এই পদক্ষেপে ইসরায়েল কতটা উদ্বিগ্ন, তা তাদের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট। যদিও পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্য ইসরায়েলের মোট রপ্তানির খুব বড় অংশ নয়, তবে এসব পণ্যকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক। এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স ও কানাডাও রয়েছে।

বহু বছর ধরেই যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সরকার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে আসছে, তবে এত দিন তারা এসব বসতিতে উৎপাদিত বা চাষ করা পণ্য নিষিদ্ধ করার পথে যায়নি। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এক রায়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি সহ পুরো দখলদারত্বকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেন এবং যুক্তরাজ্য ওই রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও ইসরায়েলি দখলদারত্ব বেআইনি মনে করার প্রতিফলন থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের জন্য এরাই দায়ী। আর ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে, এটা সত্যিই বিস্ময়কর।’

শুধু পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং বসতিগুলোয় নির্মাণকাজ, অবকাঠামো উন্নয়ন বা অর্থায়নে সহায়তা করে—এমন কোম্পানিগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলে এমন অস্ত্র বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যেগুলো দখলদারত্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। এসব পদক্ষেপ অনেকের কাছে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি কঠোর মনে হয়েছে।

এড মিলিব্যান্ড নিজে একজন গর্বিত ব্রিটিশ ইহুদি এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি নিজের অবিচল সমর্থন প্রকাশ করলেও, তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের প্রায় সবার চেয়ে খোলাখুলি ও স্পষ্ট ভাষায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সমালোচনা করেছেন। তিনি এই নিষেধাজ্ঞাকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে এক ‘নতুন শুরুর’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

লন্ডনে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘যুক্তরাজ্য ও ফিলিস্তিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘ব্রিটেনের সাহসী পদক্ষেপগুলো ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পথ সুগম করতে সহায়তা করবে।’

অনেক ইসরায়েলিও বসতি স্থাপনকারীদের কারও কারও সহিংস ও উগ্র মতাদর্শকে উদ্বেগজনক মনে করেন এবং কেউ কেউ তাঁদের দেশের জন্য লজ্জার কারণ হিসেবেও দেখেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে দখল করা ভূখণ্ডে গড়ে তোলা ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ মনে করেন।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট গত বছর তাঁর উত্তরসূরি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে ‘আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে রাষ্ট্রে’ পরিণত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দার চাপ যে ক্রমেই নেতানিয়াহুকে ঘিরে ফেলছে, তা ইসরায়েলিরা অনুভব করতে পারেন। ইউরোভিশন কিংবা বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ, নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং এখন বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি ইসরায়েলিদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এবং তাঁরা আত্মরক্ষামূলক মনোভাবের দিকে ঝুঁকছেন।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি লক্ষ্যপূরণের পথে দারুণ অগ্রগতি মনে হতে পারে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ৫৯ বছরের দখলদারত্ব শেষ হওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। এমনকি এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনও আসেনি। একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখনো অত্যন্ত ক্ষীণ। ১২টি দেশের সম্মিলিত পদক্ষেপে ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখল করে নেওয়ার প্রক্রিয়া থামবে, এমন লক্ষণও খুব কম। এমন প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের আছে। ১৯৯১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক শামিরের সরকারের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের নিশ্চয়তা আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, কারণ শামির যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন যে তাঁর সরকার দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কাজে অর্থ ব্যবহার করবে না। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা ঠেকানোর বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিতে আগ্রহ দেখাননি।

মেট্রোরেলের বিপুল ব্যয়: ভাড়া কত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন মেট্রোরেলের বিপুল ব্যয়: ভাড়া কত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন অস্ট্রেলিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ সীমিত করছে অস্ট্রেলিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ সীমিত করছে এআই মডেলের অস্বাভাবিক আচরণে বাড়ছে উদ্বেগ, নতুন কাঠামো ঘোষণা ওপেনএআইয়ের এআই মডেলের অস্বাভাবিক আচরণে বাড়ছে উদ্বেগ, নতুন কাঠামো ঘোষণা ওপেনএআইয়ের ব্যয়বহুল বিদেশি পণ্য আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি ব্যয়বহুল বিদেশি পণ্য আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে তিন মেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে তিন মেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার নির্বাচন কমিশনে যুক্ত হলো 'না' প্রতীক, সংশোধিত বিধিমালা প্রকাশ নির্বাচন কমিশনে যুক্ত হলো ‘না’ প্রতীক, সংশোধিত বিধিমালা প্রকাশ আইসিসিতে প্রথমবার সশরীরে হাজিরা দিলেন রড্রিগো দুতের্তে আইসিসিতে প্রথমবার সশরীরে হাজিরা দিলেন রড্রিগো দুতের্তে ইরান ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাস ইরান ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাস সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা চলচ্চিত্র সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্যমন্ত্রী চলচ্চিত্র সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্যমন্ত্রী
সব খবর