ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরতলা নৌকা বাইচ এবার মাত্র একটি নৌকা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। খালে পানির তীব্র সংকটের কারণে প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন করা সম্ভব না হলেও, দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে বুধবার বিকেলে চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা খালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুইশত বছর ধরে প্রতি বছর ১ ভাদ্র এই খালে নৌকা বাইচের আয়োজন হয়ে আসছে।
প্রতি বছর এই নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে খেজুরতলা খাল ও এর আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিযোগীরা বিভিন্ন ধরণের নৌকা নিয়ে অংশ নেন এবং খালের দুই পাড়ে হাজারো মানুষ ভিড় করেন। তবে এবার পানির স্বল্পতার কারণে সেই প্রতিযোগিতামূলক আমেজ না থাকলেও মানুষের আগ্রহে কোনো কমতি ছিল না। অনুষ্ঠানস্থলের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে আবার নৌকায় চড়েও পুরো আয়োজন উপভোগ করেছেন।
উৎসবকে ঘিরে খালের দুই পাড়ে বসেছিল শত শত অস্থায়ী দোকান। সেখানে খেলনা, মিষ্টি, চটপটি ও কাপড়সহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। খেজুরতলা গ্রামের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী হুমায়ূন কবির জানান, আগে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে খালপাড় মুখরিত থাকত, কিন্তু সময়ের সাথে সেই ঐতিহ্যে ভাটা পড়েছে।
আয়োজক কমিটির সদস্য মাওলানা রাশেদ হোসেন জানান, একটি নৌকা থাকলেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আয়োজক কমিটির সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ঐতিহ্য যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্যই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আগামীতে খালে পর্যাপ্ত পানি থাকলে বড় পরিসরে আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। স্থানীয়রা মনে করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত খালটি নাব্য রাখার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া, যাতে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ভবিষ্যতে আবারও জাঁকজমকপূর্ণভাবে টিকে থাকে।

















