বৃহত্তর চট্টগ্রামে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এখানকার ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও সাতটি বন্ধ হওয়ার পথে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। বাকি ১৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে থাকলেও চট্টগ্রামে লোডশেডিং চরমে পৌঁছেছে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকছে না, যা বাসাবাড়িতে ওয়াসার পানি সরবরাহেও সংকট তৈরি করেছে। গ্রামাঞ্চলে দিনে ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এই বন্ধ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র, কাপ্তাই সোলার (৭.৪ মেগাওয়াট), রাউজান-১ ও রাউজান-২ (দুটি ২১০ মেগাওয়াট), টেকনাফ সোলার (২০ মেগাওয়াট) এবং ইউনাইটেড পাওয়ার (৫০ মেগাওয়াট)।
এছাড়াও, সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। এগুলো হলো আনলিমা এনার্জি লিমিটেড (১১৬ মেগাওয়াট), আনোয়ারা ইউনাইটেড (৩০০ মেগাওয়াট), বারাকা (৫০ মেগাওয়াট), বারাকা কর্ণফুলী, জুলদা-১ ও জুলদা-২ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট)।
পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই এবং চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন রয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বিদ্যুতের দৈনিক পিক আওয়ারে চাহিদা ১ হাজার ৬৮.৭৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহও সমপরিমাণ। অফ পিক আওয়ারে চাহিদা ৯৫৮.৮৭ মেগাওয়াট এবং সরবরাহও সমপরিমাণ। তবে, এই দাবি সত্ত্বেও বাস্তবে নগরীতে প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। বুধবার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত লোডশেডিং করা হয়। কাগজে-কলমে শূন্য মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখানো হলেও, প্রকৃতপক্ষে লোডশেডিং ২০০ মেগাওয়াটের বেশি বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আরও কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নগরীর পাথরঘাটা, আসকারদিঘির পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ শিল্পাঞ্চলে কয়েকদিন ধরে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। বায়েজিদ বোস্তামী শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। শিল্পকারখানা, ফ্ল্যাটবাড়িসহ বড় বড় অফিস-আদালতে জেনারেটর চালিয়েও সংকট সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে বিগত সাড়ে পাঁচ মাস ধরে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সার কারখানাটি চালু রাখতে দৈনিক প্রায় ৪৫ এমএমসিএফডি গ্যাস প্রয়োজন হলেও, প্রয়োজনীয় সরবরাহ না পাওয়ায় উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সর্বশেষ গত ৩ মার্চ কারখানাটি উৎপাদনে ছিল, পরদিন থেকেই গ্যাস সংকটে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে কারখানাটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং এর এক হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারীর জীবন-জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সিইউএফএলের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরন মারমা জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষের দিকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

















